ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ ব্যাটার জেমস ভিন্স প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেট থেকে দূরে সরে গিয়ে পুরোপুরি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগকেন্দ্রিক হয়ে উঠছেন। সম্প্রতি হ্যাম্পশায়ারের অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর নিশ্চিত করেছেন, তিনি এই মৌসুমে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ খেলবেন না।
ভিন্সের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে দুই প্রধান কারণ—ব্যক্তিগত জীবন এবং ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) নতুন নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) নীতি।
গত বছর ভিন্সের হ্যাম্পশায়ারের বাড়িতে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটে। পরিবারকে নিরাপদ রাখতে স্ত্রী অ্যামি ও দুই সন্তানসহ তিনি যুক্তরাজ্য ছেড়ে দুবাইয়ে স্থায়ী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় নয় মাস ধরে হোটেলে থাকতে বাধ্য হওয়া ভিন্সের পরিবার তাদের বাড়িও বিক্রি করেছেন।
ভিন্স বলেন, 'এটা খুব ভয়ঙ্কর ছিল। জানালাগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ নিশ্চিত করেছিল যে এটি কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হুমকি ছিল, যদিও আমাদের প্রতি সরাসরি কিছু ছিল না। কিন্তু পরিবারের সুরক্ষার জন্য পরিকল্পনা বদলানো জরুরি হয়ে পড়েছিল।'
২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসিবির নতুন এনওসি নীতি কার্যকর হয়। এটি খেলোয়াড়দের বিদেশি লিগে অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধতা আনতে চাইলেও, ভিন্স মনে করেন, এটি খেলোয়াড়দের প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেট থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলার জন্য এনওসি পেতে তাকে হ্যাম্পশায়ারের সঙ্গে লাল-বল চুক্তি ত্যাগ করতে হয়। পিএসএল এবার এপ্রিল-মে মাসে অনুষ্ঠিত হবে, যা ইংল্যান্ডের কাউন্টি মৌসুমের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ সৃষ্টি করবে।
ভিন্স বলেন, 'এই নীতিতে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে আইপিএলের প্রতি আলাদা আচরণ করা হচ্ছে, যেখানে এনওসি দেওয়া হয় খেলোয়াড়ের চুক্তি বিবেচনা ছাড়াই। কিন্তু পিএসএলের মতো ছোট লিগের ক্ষেত্রে বিষয়টি জটিল করে তোলা হয়েছে। ফলে আরও খেলোয়াড় লাল-বল ক্রিকেট ছেড়ে সাদা-বল ক্রিকেটে মনোনিবেশ করবে।'
ভিন্স হ্যাম্পশায়ারের হয়ে ১৫ বছরে ১৯৭টি প্রথম-শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন, ৯২টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দলকে টানা তিন মৌসুমে সেরা তিনে থাকতে সাহায্য করেছেন। যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে লাল-বল ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেননি, তবে বাস্তবে সেটিই তার শেষ।
বর্তমানে ভিন্স গালফ জায়ান্টসের অধিনায়ক হিসেবে আইএলটি২০ খেলছেন। এরপর পিএসএল-এ করাচি কিংসের হয়ে খেলবেন। তবে মে মাসে ফিরে তিনি হ্যাম্পশায়ারের হয়ে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে নেতৃত্ব দেবেন।
ভিন্স বলেন, '১৫ বছর ধরে যেটার অংশ ছিলাম, সেই কাউন্টি ক্রিকেট হঠাৎ ছেড়ে দেওয়াটা অবশ্যই অদ্ভুত লাগবে। হয়তো পাকিস্তানে বসে হ্যাম্পশায়ারের ম্যাচ স্ট্রিম করব, স্কোরকার্ড দেখব। তখনই বুঝব, একটা অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে।'
ভিন্সের পরিবার দুবাইয়ে নতুন জীবন শুরু করতে উচ্ছ্বসিত। তিনি জানান, 'দুবাইয়ে জীবন ভালো লাগলে স্থায়ী হতে পারি। আর যদি কয়েক বছর পর মনে হয়, এটি আমাদের জন্য নয়, তখন হয়তো যুক্তরাজ্যে ফিরব।'
ভিন্সের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের লাল-বল ক্রিকেট থেকে সরে যাওয়া ইসিবির জন্য বড় ধাক্কা। তার মতে, সাদা-বল ক্রিকেটে উচ্চ আয়ের সুযোগ এবং নতুন নিয়ম আরও খেলোয়াড়কে এই পথে নিয়ে আসবে। তার এই মন্তব্য ইংলিশ ক্রিকেটে নীতিগত সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।