লাইন ধরে বাড়ির পথে হাঁটছেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। কেউ কেউ চড়ে বসেছেন গাড়ির কনভয়ে। কিছু গাড়ি আবার ফিলিস্তিনি পতাকাবাহী মানুষে পরিপূর্ণ। কিছু গাড়ি বহন করে নিয়ে যাচ্ছে পোশাক এবং অন্যান্য জিনিসপত্র। সবার চোখে-মুখে যেন পরম আনন্দ ও তৃপ্তির ছোঁয়া। এরা সবাই গাজার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা, যুদ্ধ যাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দীর্ঘ ১৫ মাসের যুদ্ধ অবসানের পর বাড়ির পথে ফিরছেন তারা। যদিও জানেন যে বাড়ি তারা ছেড়ে এসেছিলেন সেখানে ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই নেই। তবুও সে আশঙ্কা তাদের নিজ ফেরার আনন্দে তাতে একটুও ভাটা ফেলতে পারেনি। বাড়ি ফেরা এসব ফিলিস্তিনি ধ্বংসস্তূপে খুঁজে ফিরছে নিখোঁজ স্বজনদের।
ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৪৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একের পর এক বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে গাজার অধিকাংশ অবকাঠামো। জাতিসংঘের ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত সংস্থার দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, গাজার ৯২ শতাংশ বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংখ্যার হিসেবে সেটি ৪ লাখ ৩৬ হাজার। এর মধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজার বাড়ি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। আর ২ লাখ ৭৬ হাজার বাড়ি পুরোপুরি বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার ১৮ লাখ মানুষের জরুরি আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি জিনিসপত্র প্রয়োজন। জাতিসংঘ বলছে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর মধ্যে একেক জনকে ১০ বার বা তার বেশি বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে।
ইসরায়েলের হামলায় গাজার প্রায় পুরোটাই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে বহু মানুষ। ধারণা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছে অনেকে। ফিলিস্তিনি সিভিল ইমার্জেন্সি সার্ভিসেসের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল রয়টার্সকে বলেন, আমরা ১০ হাজার শহীদের সন্ধান করছি। যাদের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে। এ ছাড়া প্রায় ৩ হাজার মরদেহ গলে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। দীর্ঘ এই সংঘাতে পরিবার, প্রিয়জন ও বন্ধু হারিয়েছেন এসব মানুষ। ইসরায়েলের আগ্রাসনে এক পরিবারের সবার নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে অনিশ্চিত জীবন নিয়ে বাড়ি ফিরলেও, সংঘাত বন্ধ হওয়ার তৃপ্তি ঝরছে তাদের কণ্ঠে। নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে নব উদ্যম ফিরে পেয়েছেন তারা।
এদিকে, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় দিন সোমবার উপত্যকাটিতে ৯ শতাধিক ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ট্রাকের এই সংখ্যা ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে উল্লেখ থাকা দৈনিক লক্ষ্যের চেয়ে বেশি। জাতিসংঘের ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা সংস্থার সমন্বয় দপ্তর জানিয়েছে, গাজায় বেঁচে যাওয়া মানুষদের সহায়তা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অংশ হিসেবে মানবিক সহায়তা পাঠানো অব্যাহত রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার আরও ৯১৫টি ট্রাক সীমান্ত পেরিয়ে গাজায় প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।