বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক নুরুল ইসলাম শহীদ দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে নগরের কাদিরগঞ্জ এলাকায় নিজ ছাত্রাবাসে তিনি হামলার শিকার হন।
দুর্বৃত্তদের এই অতর্কিত হামলার প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে স্টুডেন্ট রাইটস অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জুলাই বিপ্লবের রক্তের দাগ শুকানোর আগেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াকুদের ওপর দেশজুড়ে হামলা ও গুপ্ত হত্যাচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা দিতে না পারলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার অযোগ্যতা প্রকাশ পায়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নাহলে ভবিষ্যতে অবস্থা আরও খারাপ হবে। এ ঘটনার মদদদাতা ও হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান তারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক ও স্টুডেন্ট রাইটস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি মো. ফাহিম রেজা, ‘জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে গত ১৫ বছরে গড়ে ওঠা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান হয়েছে। আন্দোলনে এক হাজারের বেশি শহীদ ও হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। নৃশংস এই হামলা ও হত্যাকাণ্ডের বিচার হওয়ার পরিবর্তে বিপ্লবে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারীদের ওপর বিভিন্নভাবে হামলা ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা এসব হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে দায়িত্বশীলদের কাছে জুলাই বিপ্লবে ভূমিকা পালনকারীদের নিরাপত্তার দাবি জানাই।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক ও স্টুডেন্ট রাইটস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী সজীব বলেন,‘জুলাইয়ের ক্রান্তিলগ্নে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র ১৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ফ্যাসিবাদ উচ্ছেদের সেই আন্দোলনে যারা কাঁধে কাধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন, তাদের মধ্যে নুরুল ইসলাম অন্যতম। গতকাল রাতে তার ওপর হামলা প্রমাণ করে আমাদের এখনো সজাগ থাকতে হবে। শুধুমাত্র একটা সরকার পরিবর্তনের জন্য আমাদের শহীদ ভাইয়েরা জীবন দেয়নি। এ দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে ফ্যাসিবাদ মিশে ছিল তাদের ধ্বংস করার জন্যই এই জুলাই-বিপ্লব হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চেয়ারের পদ বদলানোর জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এ আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে আপনাদের চেয়ারও বেশিদিন থাকবে না। আপনাদের চেয়ারের মেয়াদ নির্ভর করছে আমাদের নিরাপত্তার ওপর।’