ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় গত ১৯ জানুয়ারি থেকে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। গাজায় যুদ্ধবিরতির তিন দিনের মাথায় অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শরণার্থীশিবিরে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ড্রোন ও হেলিকপ্টার দিয়ে জেনিন শহর এবং সেখানকার শরণার্থীশিবিরে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এ ছাড়া কালকিলিয়া শহরে অভিযান চালিয়ে ৬০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এদিকে, যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে গাজা উপকূলে ইসরায়েলি গানবোট থেকে গুলি চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।
গত সপ্তাহে জেনিন শরণার্থীশিবিরে চালানো ইসরায়েলি হামলায় অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত ও অনেকে আহত হয়েছিলেন। এরপর পশ্চিম তীরে অভিযানকে বৃহৎ পরিসরের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যেখানেই ইরানি অক্ষ তার প্রভাব বিস্তার করবে, সেখানেই পরিকল্পিতভাবে আমরা অভিযান চালাব।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েই পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের গ্রামে হামলাকারী উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলি সেটেলারদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেদিনই সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছিল তেল আবিব। এরপরই অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর চেকপোস্টের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯৮টিতে। অঞ্চলটিতে সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তা মতবাদের পরিবর্তনকে চিহ্নিত করবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজ। এদিকে, বহু প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতির পর প্রথম তিন দিনে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করেছে ২ হাজার ৪ শতাধিক ত্রাণবাহী ট্রাক। এর মধ্যে মঙ্গলবার ঢুকেছে ৮৯৭টি ট্রাক। যুদ্ধবিরতির প্রথম দিন রবিবার ৯১৫টি ও দ্বিতীয় দিন সোমবার ৬৩০টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছিল। গাজা এবং পশ্চিমতীরে জাতিসংঘের সহায়তা প্রকল্পের শীর্ষ কর্মকর্তা মুহান্নাদ হাদি রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, প্রবেশকৃত ট্রাকগুলোর মধ্যে ৫০টি ছিল জ্বালানিবাহী। বাকিগুলোতে ছিল ময়দা, শাকসবজি, মাংস, ওষুধ, চিকিৎসা উপকরণ, তাঁবুসহ প্রভৃতি উপকরণ।
উপত্যকায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের এক তৃতীয়াংশই জাতিসংঘ ও অন্যান্য দাতাদের সহায়তার ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। ১৫ মাস ধরে চলা সেই ভয়াবহ অভিযানে গাজায় নিয়মিত ত্রাণ প্রবেশে সংকুচিত করেছিল ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী।
অন্যদিকে, হামাসের হামলা ঠেকাতে না পারার ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হেরজি হালেভি। মঙ্গলবার তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।