সৈয়দ তানজীম আল বায়েজীদের কবিতা

পরাস্থ সাক্ষাৎ

আনন্দের সঙ্গে দেখা হয়েছিল

ধুলোচাপানো শহরে আলগোছে নেমে আসা অন্যমনস্ক সন্ধ্যায় আমরা বসেছিলাম বিষন্ন কফিটেবিলের দুপাশে। মায়াভরা গবাদির মতো আনন্দের দুচোখে তখন সদ্য সবুজ হওয়া পাহাড়ি ঋণের গল্প। গরম পেয়ালার গর্ভজাত ধোঁয়ার পাকে মনে হচ্ছিল আসন্ন মৌসুম জুড়ে বাড়তে থাকবে আরোগ্যহীন সম্পর্কের হতবুদ্ধি সম্ভাবনা।

টেলিভিশনের খবরে হঠাৎ বৃষ্টির পূর্বাভাস নিয়েও আমাদের সব যৌথতার শরীর ঢাকা ছিল স্থানিক বোকা মধ্যবিত্ত অমরতায়। পরস্পরকে আস্থায় নেওয়ার উড়ন্তভাষা তার গতিপথ হারাতে থাকলে বিভাজিত হওয়ার অলৌকিক ইঙ্গিত বুঝে নিতে ধার করেছিলাম গভীর রাতের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নিরাপত্তার সূচিপত্র। প্রকাশ্য গুপ্তচরের মতো বর্গীর ছুড়ে দেওয়া পরাহতখেলায় আগন্তুকের ভূমিকা মঞ্চস্থ শেষে আনন্দকে বিদায় বলে ফেরার পথে ভাবছিলাম, কোনো কিছু হারিয়ে ফেলার মতো জীবনই কখনো পাওয়া হয়নি আমার।

আলোচ্য ভিড়সাঁতার

এখনো সামাজিক আছি প্রতিনিয়ত দূরগামী ভিড়ের ভেতর সাঁতার কেটে।

যদিও জানি এই লোকালয় আমাকে কামনা করে না, যেমন করে না বিস্তীর্ণ সব ছিটিয়ে থাকা কোলাহল। নানান হল্লার কাঁথা গায়ে যেমন কেউ আর একা থাকে না, তেমনি খয়েরি শালিক ক্রমাগত মিশে যায় ভিড়ের আলিঙ্গনে।

এই ভিড়ে মিশে থাকার রোগ-বালাই বেশ লাগে। একটা ভিড়ের রোগ থেকে আরেকটা ভিড়ের সঙ্গে ক্ষুধার্ত ভিক্ষুকের মতো ঢলে পড়া। স্যাঁতসেঁতে কম্বল অথবা হলদে কবিতার খাতা হাতড়েও নাম পাই না ভিড়ের মতো দেখতে এমন উপঢৌকনের।

আসলে কেউ ভিড়ের ভেতর থাকে না, ভিড়ে মিশে থাকার মতো করে প্রবল অনিচ্ছায় আলাদা হয়ে থাকে। ভিড়ের মাঝেও আলাদা থাকা যায় নিজের নিঃসঙ্গ দুপুর কিংবা বিকেলের হাতে হাত রেখে।

স্মৃতি তার আলো ভাঙলে তবুও লোকারণ্যে ছুটে যেতে হয় ভিড়ের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা শীতের অশেষ নির্জনতার খণ্ডকালীন ইশতেহারের পাশাপাশি হাঁটব বলে।