ব্যাংক খাত প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার খেলাপি নিয়ে হাবুডুবু খাচ্ছে, যা মোট ঋণের প্রায় ১৭ শতাংশ। মাত্রাতিরিক্ত খেলাপির কারণে সঞ্চিতি সংরক্ষণের (প্রভিশন) পরিমাণ বেড়েছে, যা অনেক ব্যাংকের পক্ষ থেকে পূরণ করে সম্ভব হচ্ছে না, যা নিয়ে খোদ আপত্তি তুলেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির প্রস্তাবিত আর্থিক খাতের সংস্কারের মধ্যে খেলাপি এবং প্রভিশনিং নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইএমএফের ইতিমধ্যে চুক্তি হয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী ২০২৭ সালের মধ্যে খেলাপি ঋণ এবং প্রভিশনিং আন্তর্জাতিক মানের করতে বিশদ সময় কাঠামো ঘোষণা করেছে, যা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড-৯-এর কাঠামো অনুযায়ী ২০২৮ সাল থেকে শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে মর্মে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নির্দেশনায় বলা হয়, আইএফআরআই-৯-এর আওতায় গ্রাহকের এক্সপেকটেডম ক্রেডিট লস, পদ্ধতিতে প্রভিশন সংরক্ষণ করা হবে। আর ইসিএল মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংকের গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠান কিংবা কোম্পানির অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের ঝুঁকি ও সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাকের নতুন রোডম্যাপে আর্থিক এবং সামষ্টিক অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়াবলি গুরুত্ব আরোপের কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণখেলাপির বিদ্যমান শ্রেণীকরণ স্ট্যান্ডার্ড (এসএস), ডাইডফুল (ডিএফ), ব্যাড অ্যান্ড লসের (ইএল) হিসাব থাকবে না। নতুন পদ্ধতিতে ঋণ শ্রেণীকরণের ধরন হবে ফেজ-১, পেজ-২ এবং ফেজ-৩।