খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি তারিখ পুনঃনির্ধারণের দাবি উঠেছে। ভর্তি পরীক্ষায় চান্সপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের দাবি, ভর্তির তারিখ যেন বুয়েটের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর নির্ধারণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) অভিভাবকদের পক্ষ থেকে শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর এ সংক্রান্ত একটি দাবি জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বিগত বছরগুলোতে বুয়েট ব্যতীত অন্য ৩টি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ হিসেবে পরীক্ষা নিলেও চলতি বছর এককভাবে পরীক্ষা নেয় কুয়েট কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ জানুয়ারি শর্টলিস্টেড ২৪ হাজার শিক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। ১৫ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে সেই পরীক্ষার ফলাফল এবং আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভর্তির নির্দেশনা দিয়েছে কুয়েট কর্তৃপক্ষ।
তবে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১০২৫ শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের মধ্যে অনেকের দাবি, কুয়েট কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তের ফলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের সন্তানদের। কেননা এখনো বুয়েটের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়নি। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বুয়েটের প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণরা অংশ নেবেন বুয়েটের লিখিত পরীক্ষায়।
অভিভাবকদের অভিযোগ, কুয়েটে ভর্তির জন্য নির্বাচিতদের একটি বড় অংশ বুয়েটে চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বুয়েটে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হতে ১০/১৫ দিন সময় লাগে। এতে বিপত্তিতে পড়বে কুয়েটে চান্সপ্রাপ্তরা। যারা বুয়েটে চান্স পাবে তাদের অহেতুক কুয়েটের ভর্তি ফি বাবদ ১২ হাজার টাকা। এছাড়া ভর্তি বাতিলের জন্য ২ বার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খুলনায় যাতায়াত করা লাগবে।
আর তাই নির্ধারিত ১৬ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ১৫ দিন পিছিয়ে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। এতে তাদের অহেতুক কুয়েটে ভর্তির ফি বাবদ ১২ হাজার টাকা, ভর্তির জন্য ও ভর্তি বাতিলের জন্য ২ বার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খুলনায় যাতায়াত করা লাগবে না। অনেক পরিবারের পক্ষে এ বাড়তি খরচ করা সম্ভব নয়। ফলে তাদের অধিক ব্যয়ের বোঝা কমানো সম্ভব হবে।
অভিভাবকদের মতে, বর্তমানে ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী ভর্তি হতে বাধ্য করা হলে প্রতি শিক্ষার্থী বাবদ ১২ হাজার করে প্রায় ১০০০ জনের কাছ থেকে কুয়েট কর্তৃপক্ষ অন্যায্য লাভ করবে। যা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অনৈতিক বলে মনে করছেন তারা।