১৫ মাসের বেশি সময় পর গত ১৯ জানুয়ারি থেকে গাজা উপত্যকায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে আকাক্সিক্ষত যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছে। এরপরও থেমে নেই উপত্যকাটিতে ইসরায়েলের আগ্রাসন। অধিকৃত পশ্চিম তীরে অভিযান জোরদারের পাশাপাশি গাজা যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে ভূখণ্ডটিতে হামলা চালিয়েছে তেল আবিব। দক্ষিণ ও মধ্য গাজায় এ হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। একটি চিকিৎসা সূত্রের বরাতে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি।
গতকাল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থাটি বলছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও দক্ষিণ গাজার পশ্চিম রাফাহের তেল আল-সুলতান এলাকার একটি বাড়ি লক্ষ্য করে ইসরায়েলের আর্টিলারি হামলায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে চুক্তির অধীনে গাজা উপত্যকাকে নিরাপদ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে ফিলিস্তিনিরা ফিরে যেতে পারে। ইসরায়েলের এ হামলা তাই স্পষ্টত চুক্তির শর্তের লঙ্ঘন। আরেকটি চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, আল-বুরেজ শরণার্থীশিবিরের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে আহত একজন ফিলিস্তিনিকে মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহে আল-আকসা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে দ্বিতীয় দফায় চার ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার কথা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। হামাসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফা বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে শনিবার চার ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির অন্যতম শর্ত অনুযায়ী বন্দি বিনিময়ের ২৪ ঘণ্টা আগে এ জিম্মিদের নাম প্রকাশ করবে হামাস।
কাতারের আল-আরাবি সংবাদমাধ্যমকে হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা জাহের জাবারিন জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে মুক্তি পেতে যাওয়া চার জিম্মির নাম জানানো হবে। পশ্চিম তীরে হামাসের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে আছেন জাবারিন। মূলত তিনি নির্বাসিত হামাস নেতা। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে থাকেন তিনি। শনিবার বিকেলে যুদ্ধবিরতির ৪২ দিনব্যাপী প্রথম পর্যায়ে দ্বিতীয়বারের মতো বন্দি-জিম্মি বিনিময় হতে যাচ্ছে। তবে জানা গেছে, মুক্তিপ্রাপ্ত চার জিম্মির সবাই নারী। এর মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক মানুষ উভয়ই থাকবেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, যুদ্ধবিরতির এ পর্যায়ে মুক্তি পেতে যাওয়া বাকি জিম্মিদের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ করবে হামাস।
গাজায় যুদ্ধবিরতি চললেও দখলকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বড় ধরনের অভিযানের সতর্কতা জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী। গত মঙ্গলবার শুরু হওয়া এ অভিযানে ইতিমধ্যে ১২ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। সেখানকার কয়েকশ বাসিন্দাকে জোরপূর্বক ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। অন্যদিকে, তেল আবিবের সহযোগী তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে হামাস। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গাজা নাউ তাদের টেলিগ্রামে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। যার শিরোনামে লেখা হয়েছে, দখলদারদের এজেন্টদের শাস্তি দেওয়ার মুহূর্ত। যারা আমাদের কয়েক হাজার ফিলিস্তিনিদের হত্যা করেছে। দণ্ডিতদের সবাই ফিলিস্তিনি। তবে সাম্প্রতিক এ যুদ্ধে ইসরায়েলকে বর্বরতা সহযোগিতা করেছেন তারা।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের এ আগ্রাসনে ৪৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।