বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের প্রথম পর্বের শেষ রাউন্ডের প্রথম ম্যাচ ডে দেখল মৌসুমের সবচেয়ে বড় অঘটন। ঘরের মাঠ কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে অবনমন ঝুঁকিতে থাকা ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্সের কাছে ১-০ গোলে হেরে বসেছে আগের আট ম্যাচের সবকটি জিতে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখানো মোহামেডান। তাতে দারুণ জমে উঠেছে লিগ। গাজীপুরে স্বাগতিক ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে তিনে উঠে এসেছে শেষ পাঁচবারের লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস। আর ময়মনসিংহে পুলিশ এফসির কাছে ২-১ ব্যবধানে হারের তেতো স্বাদ পেয়েছে এতদিন তিনে থাকা রহমতগঞ্জ। সব মিলিয়ে বিরতিতে যাওয়ার আগে লিগের হিসাব নিকাশে এসেছে আমূল পরিবর্তন।
মোহামেডানের পয়েন্ট খোয়ানোতে লাভ শিরোপা রেসেছ থাকা বাকি দলগুলোর। সবচেয়ে বেশি খুশি হওয়ার কথা চিরবৈরী আবাহনীর। আজ দলটি মুখোমুখি হবে ব্রাদার্স ইউনিয়নের। এই ম্যাচে জিতলে মোহামেডানের সঙ্গে আবাহনীর ব্যবধান কমে দাঁড়াবে দুই পয়েন্ট। ওদিকে দোলাচলে দুলতে থাকা বসুন্ধরা কিংসের জন্যও দিনটি ভীষণ স্বস্তির। আগের রাউন্ডে ফর্টিস এফসির সঙ্গে ড্র করে শিরোপার স্বপ্ন অনেকটাই ধূসর হয়ে গিয়েছিল তাদের। শুক্রবার জয়ের পাশাপাশি মোহামেডানের হারে তারাও ব্যবধানে নামিয়ে এনেছে সাত পয়েন্টে। মোহামেডান তারপরও লিগের প্রথম পর্ব শেষ করছে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে থেকে। কিংসের ১৭ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এসেছে তিনে। দুইয়ে থাকা আবাহনীর সংগ্রহ ১৯। সেটা আজ ২২ হতে পারে। রহমতগঞ্জের সুযোগ ছিল তৃতীয়স্থানটা ধরে রাখার। তবে পুলিশের কাছে হেরে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তারা নেমে গেছে চারে। ফকিরেরপুল তৃতীয় জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এসেছে সাতে।
কুমিল্লায় আলফাজ আহমেদের মোহামেডান দুর্বল ফকিরেরপুলের বিপক্ষে নেমেছিল উত্তুঙ্গ আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করে। তবে গোল করা ছাড়া বাকি সব কিছুই করেছে সাদা-কালোরা। অবিশ্বাস্য সব সুযোগ নষ্টের চড়া মাশুল দিতে হয়েছে মোহামেডানকে। যা তাদের সামনের দিনগুলোতে ভোগাতে পারে ভীষণভাবে।
মোহামেডানকে খানিকটা নড়বড়ে মনে হয়েছে শুরুতে। সময় যত গড়িয়েছে ছন্দ ফিরেছে তাদের খেলায়। তবে গোল ফেরেনি ফরোয়ার্ডদের পায়ে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ফকিরেরপুল কিপার সাজু আহমেদের ভুলের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন মোহামেডান অধিনায়ক সুলেমান দিয়াবাতে। সাজু ভুল করে বল দিয়াবাতের পায়ে তুলে দিয়েছিলেন। তবে আচমকা শটটা ঠিকঠাক লক্ষ্যে রাখতে পারেননি মালির স্ট্রাইকার। এর কয়েক মিনিট পর মিনহাজ রাকিব সুযোগ নষ্ট করেন। পাশে থাকা দিয়াবাতেও ফ্লিকটা ঠিকঠাক করতে পারেননি। বিরতির পরও চলতে থাকে মোহামেডানের গোল মিসের মহড়া। ৬২ মিনিটে মনসুর কুলিদিয়াতি ফকিরেরপুলের বক্সে ছিলেন একেবারের অরক্ষিত অবস্থায়। বল পেয়ে শট নেওয়ার যথেষ্ট সময়ও পেয়েছিলেন। তবে অবিশ্বাস্যভাবে তার শট যায় পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে। এর তিন মিনিট পর ম্যাচের লাগাম নিজেদের করে নেয় ফকিরেরপুল। আকবির তুরায়েভের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে বক্সের বেশ বাইরে থেকে উজবেকিস্তানের মিডফিল্ডার সার্দোর জাহোনোভের জোড়ালো শটের নাগাল পাননি মোহামেডান কিপার সুজন।
পিছিয়ে পড়ে মোহামেডান মরিয়া হয়ে উঠেছিল ম্যাচে ফেরার। তবে ফকিরেরপুলের বদলি গোলকিপার তৈয়স সিদ্দিকী ও ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় মোহামেডানকে ফিরতে হয় হারের হতাশা নিয়ে। ৭৪ মিনিটে সৌরভ দেওয়ানের গোলমুখি শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার সেগুন টোপে ওডুডোয়া। ৮২ মিনিটে আরিফ হোসেনের শট বাইরের জাল কাঁপালে হতাশা বাড়ে। আর দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে মনসুরের হেড ঠেকিয়ে দিয়ে ফকিরেরপুলের গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেন বদলি গোলকিপার তৈয়ব।
গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ঢাকা ওয়ান্ডারার্স কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি বসুন্ধরা কিংসের সামনে। প্রথমার্ধেই কিংস এগিয়ে যায় তিন গোলে। পরের অর্ধে আরও দুই গোলে বড় জয় উপভোগ করে পাঁচবারের শিরোপাধারীরা। ম্যাচের ১১ মিনিটে জোনাথন ফার্নান্দেজের গোলে লিড নেয় কিংস। ২৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সোহেল রানা জুনিয়র। ৩৮ মিনিটে ৩-০ করেন গোলের নেশা পেয়ে বসা ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। এটি তার লিগে তৃতীয় গোল এবং মৌসুমে ষষ্ঠ। দ্বিতীয়ার্ধে রাকিব হোসেন ও মিগেল ফিগেইরা গোলৎসবে যোগ দেন।
ময়মনসিংহের রফিক উদ্দিন ভুঁইয়া স্টেডিয়ামে আল আমীনের জোড়া গোলে রহমতগঞ্জকে হারিয়েছে স্বাগতিক পুলিশ। এর আগে অবশ্য পুরান ঢাকার দলটিকে ২৫ মিনিটে এগিয়ে নিয়েছিলেন ঘানাইয়ান মাহমুদ ওশি। এর ৯ মিনিট পর আল আমীন সমতায় ফেরান পুলিশকে। আর ৬৮ মিনিটে করেন জয়সূচক গোল। এ নিয়ে আল-আমীনের এবারের লিগ গোলসংখ্যা হলো ৫টি।