৮ দিনে ১২টি ম্যাচ দিয়ে শেষ হলো এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের চট্টগ্রাম পর্ব। ঢাকা ও সিলেট পর্বে ছোট বাউন্ডারি নিয়ে সমালোচনা হওয়ায় বন্দর নগরীতে এসে বাড়ানো হয় এর দৈর্ঘ্য। এ সিদ্ধান্তের প্রভাবও পড়ে আগের দুই পর্বে তকমা জোটা রান বন্যার বিপিএলে। যেখানে সমান ১২ ম্যাচে চায়ের দেশ সিলেটে দুইশ পেরোনো ইনিংস ছিল পাঁচটি, সেখানে চট্টগ্রামে এমন ইনিংসের সংখ্যা মাত্র তিনটি। ১৯০ এর বেশি সংগ্রহ দেখা যায় এই পর্বের আর মাত্র তিনটি ইনিংসে। চট্টগ্রাম পর্বের ১২ ম্যাচে বোর্ডে রান উঠেছে সবমিলিয়ে ৩ হাজার ৭৯৬। ইনিংসপ্রতি যার গড় দাঁড়ায় ১৫৮.১৬।
সিলেট পর্ব শেষে রানের বিচারে আসরের সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন জাকির হাসান। তার কাছ থেকে আসনটি নিজের করে নিয়েছেন ঢাকা ক্যাপিটালস ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। এখন পর্যন্ত আসরে চারশর বেশি রান করা ব্যাটসম্যান তিনি একাই। ১০ ইনিংসে ৪৬.৬৬ গড় ও ১৪৩.৮৩ স্ট্রাইক রেটে তার উইলো থেকে এসেছে ৪২০ রান। তিনটি হাফ সেঞ্চুরির সঙ্গে করেছেন একটি সেঞ্চুরি, আছে অপরাজিত ৯০ রানের ইনিংসও। এই আসরে আরেকটি অনন্য কীর্তি গড়েছেন তানজিদ। ১০ ইনিংসে ২৯ বার উড়িয়ে বল সীমা ছাড়া করে বনে গেছেন এক আসরে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানোর মালিক। এ তালিকায় তিনি পেছনে ফেলেছেন গত আসরে ১৪ ম্যাচে ২৪ ছক্কা হাঁকানো তাওহীদ হৃদয়কে। বিদেশিদের মধ্যে ছাপিয়ে গেছেন নিকোলাস পুরান (২৮), আন্দ্রে রাসেল (২৮) এবং এভিন লুইসের (২৭) মতো হার্ডহিটারদের। চট্টগ্রাম পর্বশেষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তানজিদের পরে আছেন এনামুল হক বিজয় (৩৭৯), লিটন দাস (৩৪৮), জাকির হাসান (৩৪২) ও গ্রাহাম ক্লার্ক (৩৩৫)।
চট্টগ্রাম পর্ব শুরুর আগে ৬ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়েছিলেন দুর্বার রাজশাহীর তাসকিন আহমেদ। এই পর্বে বিজয়ের পরিবর্তে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির অধিনায়কত্বও পেয়ে যান তিনি। মোট ২২ উইকেট নিয়ে আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিও তিনি। তার সঙ্গে সেরা তিনে থাকা বাকি দুজনও পেসার। রংপুরের আকিফ জাভেদ ও খুলনার আবু হায়দার রনি দুজনই পেয়েছেন ১৫টি করে উইকেট। সেরা পাঁচের শেষ দুজন হলেন খুশদিল শাহ (১৪) ও নতুন করে বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া আলিস আল ইসলাম (১২)। উইকেট শিকারের মতো করে আলোচনার শীর্ষে থাকা দলটির নামও তাসকিনের দুর্বার রাজশাহী। সিলেটশেষে চট্টগ্রামে এসে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক না দেওয়ার কাণ্ডে সমালোচিত হতে হয় তাদের। ক্রিকেটারদের অনুশীলন না করতে দেখা গেলেও ফ্র্যাঞ্চাইজিটির পক্ষ থেকে পরে কারণ হিসেবে ‘বিরতি’কে সামনে আনা হয়। ওঠে ফিক্সিং বিতর্কও। পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় রাজশাহীর ফ্র্যাঞ্চাইজি স্বত্ব কেড়ে নেওয়ার মতো কড়া অবস্থানে পৌঁছে যায় বিসিবি। এমনকি চিটাগং কিংসের কাছে আসরের সর্বনিম্ন ৮০ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার লজ্জা পায় দলটি। এই অবস্থা উতরে শেষ দিন টেবিলের শীর্ষে থাকা অপরাজিত রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে দেয় রাজশাহী। যাতে জমে ওঠে প্লে-অফের সমীকরণ।
চট্টগ্রাম পর্ব শেষে সেরা চারে জায়গা নিশ্চিত শুধু রংপুর রাইডার্সের। বাকি তিন দলের মধ্যে ৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বরিশাল রয়েছে দৌড়ে এগিয়ে। ৯ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তিনে থাকা চিটাগংয়ের বাকি ৩ ম্যাচের এক বা দুটি জিতলেই সেরা চার নিশ্চিত হবে। ৮ পয়েন্ট আছে খুলনা ও রাজশাহীর। খুলনার ৩ ম্যাচ বাকি, যার মধ্যে দুটিতে জিতলেই সেরা চারে নির্বিঘেœ থাকতে পারার কথা। তবে রাজশাহীর প্লে-অফে উঠতে হলে পাড়ি দিতে হবে কঠিন পথ। বাকি থাকা দুই ম্যাচেই জিততে হবে। কাগজে-কলমে অনেক মারপ্যাঁচ থাকলেও ঢাকা ও সিলেটের প্লে-অফ খেলার সম্ভাবনা নেই বলা যায়।