ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সমন্বয়ককে পিটিয়েছে আরেক সমন্বয়ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে নাদিম ইসলাম রোহান (২৫) নামে এক সমন্বয়ককে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে আরেক সমন্বয়কের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে আশুগঞ্জ গোল চত্ত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর আহত নাদিম ইসলাম রোহানকে প্রথমে আশুগঞ্জ ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহত রোহান আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে। এ ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে সমন্বয়কদের একটি পক্ষ আশুগঞ্জ গোল চত্ত্বরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রায় আধা ঘন্টা অবরোধ করে রাখেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আগামী ৩০ জানুয়ারি আশুগঞ্জ শ্রমকল্যাণ কেন্দ্র মাঠে তারুণ্যের মেলায় আসার কথা রয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ মাহাদি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ। কিন্তু মিসেল নামে সোহাগপুর এলাকার এক সমন্বয়ক তাদের আশুগঞ্জে তারুণ্যের মেলায় আসার বিষয় নিয়ে ফেসবুক গ্রুপ ম্যাসেঞ্জারে প্রতিহতের ঘোষণা দেন।

এ নিয়ে নাদিম ইসলাম রোহান প্রতিবাদ করলে সোহাগপুর গ্রামের মিসেলের নেতৃত্বে একদল যুবক আগে পরিকল্পিতভাবে নাদিম ইসলাম রোহানের ওপর হামলা চালায়। আহত রোহানকে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে আশুগঞ্জের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে স্বজনরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। 

এ ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে সমন্বয়কদের একটি পক্ষ আশুগঞ্জ গোল চত্ত্বরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অন্তত ১০ মিনিট অবরোধ করে রাখেন।

জাতীয় নাগরিক কমিটির আশুগঞ্জ প্রতিনিধি ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আশুগঞ্জ সমন্বয়ক জয়ন্তি বিশ্বাস জানান, হামলাকারী মিসেল ছাত্রলীগ কর্মী। সে সমন্বয়ক নয়। আমরা তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছি। তাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার না করা হলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

আশুগঞ্জ থানার ওসি মো. বিল্লাল মিয়া জানান, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। নাদিম ইসলাম রোহান নামে একজনকে পিটিয়ে আহত করেছে। অপর পক্ষটি ছাত্রলীগ কর্মী বলে দাবি করেছে আহত পক্ষ। এ ঘটনায় প্রায় আধাঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে বিক্ষুব্ধরা।