ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে চলা সংঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। যুদ্ধে সদস্যদের প্রাণহানির পাশাপাশি হামাসের অবকাঠামো ব্যবস্থারও ক্ষতিসাধন হয়েছে। গাজা উপত্যকা জুড়ে হামাসের বিশাল ভূগর্ভস্থ টানেল ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে অতীতের মতো আবারও ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতোই জেগে ওঠার চেষ্টা করছে সংগঠনটি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হামাস ১০ থেকে ১৫ হাজার যোদ্ধা নিয়োগ দিয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
এই গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে জ্ঞাত যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হামাস সফলভাবে নতুন সদস্য সংগ্রহ করলেও তাদের বেশিরভাগই ছিল অল্প বয়সী ও প্রশিক্ষণহীন। এদের মূলত সাধারণ পাহারার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ওই কর্মকর্তারা আরও জানান, গাজা যুদ্ধে প্রায় সমসংখ্যক হামাস যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ এই সরকারি হিসাব এর আগে প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে রয়টার্সের জানানো মন্তব্যের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকের দপ্তর সাড়া দিতে রাজি হয়নি।
১৫ মাস ধরে যুদ্ধ চলার পর হামাস ও ইসরায়েল গত রবিবার থেকে একটি যুদ্ধবিরতি শুরু করেছে। এ যুদ্ধে গাজা ভূখণ্ড প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলের আগ্রাসনে ৪৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যুদ্ধ শেষ হলেও গাজার আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা তাই কাটছে না। যুদ্ধে হাজার হাজার পরিবার তাদের প্রিয়জন হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে শিশুদের ওপর। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় ৩৮ হাজারের বেশি শিশু অনাথ, তারা এখন একা। এই যুদ্ধ কেবল গাজার শিশুদের শারীরিক ক্ষতিই করেনি, বরং তাদের মনেও গভীর আঘাত হেনেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জাহের আল-ওয়াহিদি বলেন, প্রায় ৩২ হাজার ১৫১ শিশু তাদের বাবা হারিয়েছে। মা হারিয়েছে আরও ৪ হাজার ৪১৭ শিশু। আর ১ হাজার ৯১৮ শিশু বাবা-মা দুজনকেই হারিয়েছে। তারা এখন তীব্র শূন্যতা আর একাকিত্বের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছে।
এদিকে, ইসরায়েলে হামাসের নজিরবিহীন হামলা এবং নাগরিকদের যথাযথ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পদত্যাগ চান ৬২ শতাংশ ইসরায়েলি। দেশটির দৈনিক মারিভ পরিচালিত এক জরিপে উঠে এসেছে এ তথ্য। জরিপে অংশ নেওয়া ইসরায়েলিদের মধ্যে ৬২ শতাংশ জানিয়েছেনÑতারা নেতানিয়াহুর পদত্যাগ চান, ২৯ শতাংশ জানিয়েছেন যে তারা প্রধানমন্ত্রীর পদে নেতানিয়াহুকেই দেখতে চান এবং ১৯ শতাংশ কোনো মন্তব্য করেননি। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টির সমর্থকদের পাশাপাশি ইসরায়েলের বর্তমানে ক্ষমতাসীন জোট সরকারভুক্ত দলগুলো এবং বিরোধী দলগুলোর সমর্থকরা ছিলেন।
তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ষষ্ঠ দিন শুক্রবার ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তার ট্রাকের প্রবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রমবিষয়ক সমন্বয় দপ্তর জানায়, সেদিন উপত্যকায় মানবিক সহায়তা নিয়ে মাত্র ৩৩৯টি ট্রাক প্রবেশ করেছে।