তিন সপ্তাহ পর ত্রিশে পা দেবেন ম্যাডিসন কিস। ১৯তম বাছাই হিসেবে বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন খেলতে নামার আগে তার লক্ষ্য ছিল যতটুকু সম্ভব ভালো খেলে জন্মদিনটা উপভোগ করা। এই টুর্নামেন্টটিতে নিজের সেরা নৈপুণ্য কিস দেখিয়েছিলেন ঠিক ১০ বছর আগে। ২০১৫ সালের সেই আসরে সেমিফাইনাল খেলেছিলেন কিস। তখন তিনি ছিলেন ১৯ বছরের তরুণী। উঠতি তরুণী হিসেবে চারপাশে নাম ভাসছিল তার। ওই দাপট সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেছে। নারীদের র্যাংকিংয়ে সেরা দশের মধ্যেও ছিলেন ৬ বছর আগে, সবশেষ ২০১৯ সালে। সেই ম্যাডিসন কিসই শনিবার দুইবারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শিরোপজয়ী বিশ্বের নাম্বার ওয়ান তারকা আরিনা সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে নারী এককের শিরোপা জিতেছেন। ৩০তম জন্মদিনে কেবল ভালো খেলা নয় নিজেকে উপহার দিতে যাচ্ছেন ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা। বিশ্বের চতুর্থ সর্বোচ্চ বয়সী নারী হিসেবে কোনো মেজর শিরোপা জিতলেন কিস।
এর আগে মাত্র একবারই মেজর ফাইনাল খেলেছেন কিস। ২০১৭ সালে ইউএস ওপেনের সেই ফাইনালে সেøায়ান স্টিফেনসের কাছে হেরে গ্র্যান্ড সø্যাম জেতার স্বপ্ন ভেঙেছিল তার। এবার আর তা হতে দেননি। মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারেনায় ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখান। সবাইকে চমকে দিয়ে প্রথম সেট জিতে নেন ৬-৩ গেমে। দ্বিতীয় সেট ৬-২ গেমে জিতে ম্যাচে ফেরেন সাবালেঙ্কা। কিন্তু শেষ সেটটি ৭-৫ গেমে জিতে নিয়ে শিরোপা উল্লাসে মাতেন কিস। এবারের আসরে একাধিক অঘটন উপহার দেন কিস। শেষ ষোলোয় হারান ২০২২ উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন এলেনা রিবাকিনাকে। কোয়ার্টারেও ফেভারিট এলিনা ভিতোলিনাকে পরাস্ত করেন। সেমিফাইনালে পাঁচটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতা দ্বিতীয় বাছাই ইগা সোয়ানতেককে হারিয়ে টেনিস বিশ্বে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন কিস। ফাইনালে হারালেন শীর্ষ বাছাই সাবালেঙ্কাকে। ২০০৫ আসরে সেরেনা উইলিয়ামসের পর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে শীর্ষ দুজনকে হারানোর কীর্তি গড়লেন কিস। এই কীর্তি সবশেষ গড়েছিলেন ২০০৯ ফ্রেঞ্চ ওপেনে সভেতলেনা কুজনেতসোভা। ২০২০ আসরে সোফিয়া কেনিনের পর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাচ্ছেন কিস।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে শিরোপা জয়ের সবচেয়ে ফেভারিট ছিলেন আরিনা সাবালেঙ্কা। জিতলেই হ্যাটট্রিক শিরোপা হতো তার। যে কীর্তি গড়তে পেরেছিলেন একমাত্র মার্টিনা হিনগিস, ১৯৯৭, ৯৮ ও ৯৯ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা জিতে। ২৬ বছর বয়সী বেলারুশ তারকা সাবালেঙ্কাও ছিলেন সঠিক পথে। ২০২২ সালের পর থেকে মেলবোর্নে একটি ম্যাচও হারেননি। এবারের মৌসুমে শুরুটাও তিনি করেছিলেন ব্রিসবেন ইন্টারন্যাশনাল জিতে। কিন্তু শেষে এসে তরী ডোবার হতাশা চেপে রাখতে পারেননি, ক্ষোভে নিজের র্যাকেটটি আছড়ে ভেঙে ফেলেন নাম্বার ওয়ান সাবালেঙ্কা।
কিন্তু কীভাবে এই কীর্তি গড়লেন কিস! গত বছর অক্টোবরেই নিজের মৌসুমের ইতি টেনে ফেলেছিলেন তিনি। নভেম্বরে কিস ছাদনাতলায় বসেন কোচ বিয়র্ন ফ্র্যাটেনজেলোর সঙ্গে। ২০১৭ সাল থেকেই প্রেম করছিলেন এই দুজন। ২০১১ সালে জুনিয়র ফ্রেঞ্চ ওপেন জেতা বিয়র্ন কিসকে নিয়ে বলেছিলেন, ‘প্রতিনিয়ত ধার দিতে থাকা কুঠার আপনাকে অনেক দূর নিয়ে এলেও কখনো পরের ধাপে উঠতে কোনো বিশেষ সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়। আমি চেয়েছিলাম কীসের সেই সরঞ্জাম হয়ে উঠতে।’ নিজের দশম ও সবচেয়ে বড় শিরোপাটি জেতার পর কিস বলেন, ‘আমি অনেকদিন ধরে এটাই চাচ্ছিলাম। আগের ফাইনালটি হেরে যাওয়ার পর কখনো ফিরতে পারব বলে ভাবিনি। কিন্তু আমার পুরো টিমের সেই ভরসা ছিল। এই জয়ে আমি হতবাক।’ হতবাক হওয়াটাই যৌক্তিক। ১৪ বছর বয়সে প্রথম প্রফেশনাল ম্যাচ জিতে গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা উঁচিয়ে ধরার যে স্বপ্ন কিস বুনেছিলেন তা পূরণ হলো ৪৬তম মেজর টুর্নামেন্টে। এতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন পেল নিজের নতুন রানীকে।