নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ও বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে জামালপুর পৌর শহরের দয়াময়ী মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।
রবিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে পৌর শহরের ফৌজদারি মোড় থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।
মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দয়াময়ী মোড়ে গিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। অবরোধ করে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকরী শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়াও সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের ফুটবল ও লুডু খেলতে দেখা যায়। এ সময় শিক্ষার্থীরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। শিক্ষার্থীদের অবরোধে জেলা শহর সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা জেলা শহর অচল হয়ে পড়েছিল। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন। শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ থাকায় যানজটের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয় পথচারীদের। এ সময় ছাত্রলীগ নেতা সন্দেহে একজনকে আটক করে পুলিশ। পরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একেএম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ ঘটনাস্থলে এসে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও শিক্ষার্থীদের সাথে বৈঠকের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, জামালপুরে ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিল হচ্ছে। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি চিত্র অঙ্কিত গ্রাফিতি নষ্ট করাসহ যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেছি। প্রশাসন এখনো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে না। দুই-একজনকে গ্রেপ্তার করলেও দ্রুত আদালত জামিন দিয়ে দিচ্ছে। এছাড়াও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাঘব বোয়ালদের গ্রেপ্তার না করাসহ আসামিদের দ্রুত জামিনের প্রতিবাদ করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতাসহ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগেরও দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জামালপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মীর ইসহাক হাসান ইখলাস বলেন, আমরা দেখছি বিভিন্ন সময় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ মিছিল করছে। দুই দিন আগেও দিনের বেলায় আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিল হয়েছে। এর দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে। এছাড়া রাঘব বোয়ালদের আটক না করে চুনোপুঁটি গ্রেপ্তার করছে। তাদের আবার জামিনেও ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এই দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে। আমরা ফ্যাসিস্টদের ছাড় দেব না।