বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর না হলে রাজনৈতিক সংস্কার কাজে আসবে না। বিদ্যমান আয় ও ধন বৈষম্য টিকে থাকলে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। তাই রাজনৈতিক সংস্কার টেকসই করতে হলে অর্থনৈতিক সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।
আজ রবিবার বিকেলে ঢাকার দোহারের ইটাখোলা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পার্টির কর্মী সমাবেশে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, পাকিস্তানি জামানার মতো এখনও একদেশে যেন দুই সমাজ, দুই অর্থনীতি চলছে। দেশের রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের রাজনৈতিক সংস্কারে যত আগ্রহ অর্থনৈতিক সংস্কারে সেই আগ্রহ দেখা যায় না। অনেকগুলো সংস্কার কমিশন গঠন হলেও বৈষম্য বিলোপে কোনও কমিশন গঠিত হয়নি। গত সাড়ে পাঁচ মাসে অর্থনৈতিক মাফিয়া ও দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাস্তবে এই বাজারের মাধ্যমে মানুষ কিনতেও ঠকে আবার বেচতেও ঠকে। তিনি উৎপাদকসহ জনগণকে রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে বাজার সংস্কারের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের মধ্যেও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে হবে। কারও ভুল বা হটকারিতায় গণঅভ্যুত্থানের অর্জন নষ্ট করা যাবে না। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক দল ও জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারকে সংস্কার ও নির্বাচনের পথে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় নিজেদের লক্ষ্যে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।
ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থান শোষণহীন সাম্যভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সুযোগ এবার আর বিনষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। এজন্য তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির দোহার উপজেলা কমিটির সম্পাদক আবদুল হাকিম আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য স্নিগ্ধা সুলতানা ইভা, পার্টির নবাবগঞ্জ জেলার সংগঠক শাহাদাত হোসেন খোকন, খন্দকার আলী আব্বাস স্মৃতি সংসদের নেতা আজহারুল হক প্রমুখ।