পুকুর ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ

হবিগঞ্জ পৌরসভাকে হাইকোর্টের রুল

পুকুর ভরাট করে হবিগঞ্জ পৌরসভার মার্কেট নির্মাণ করায় রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। পুকুর ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ কেন বেআইনি ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে এ রুল জারি করা হয়।

পুকুর দুটি রক্ষায় ভরাট করা অংশ পুনরুদ্ধার ও একইসাথে জনস্বার্থে পুকুরটি সংরক্ষণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এর ৭ ধারা অনুযায়ী হবিগঞ্জ পৌরসভাকে শান্তি প্রদানের নির্দেশ কেন প্রদান করা হবে না তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা একটি জনস্বার্থমূলক মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

রুল জারির পাশাপাশি আদালত পুনরায় ‘চন্দ্রনাথ পুকুর’ ও ‘টাউন মডেল স্কুল পুকুর’ দুটি ভরাট ও সেখানে সব ধরনের নির্মাণ কার্যক্রমের ওপর মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। এ ছাড়া আগামী এক মাসের মধ্যে আদালতে আদেশ প্রতিপালন সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের হবিগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পরিচালককে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

উল্লেখ্য, হবিগঞ্জ পৌরসভায় ‘চন্দ্রনাথ পুকুর’ ও ‘টাউন মডেল স্কুল পুকুর’ নামে ঐতিহ্যবাহী দুটি পুকুর রয়েছে। হবিগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃপক্ষ মার্কেট নির্মাণের উদ্দেশ্যে অনুমোদন ব্যতীত ভরাট কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকলে শতবর্ষী এ পুকুর দুইটি রক্ষায় সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বেলা জনস্বার্থমূলক মামলা করে। এর আগে ২০২২ সালে দেশ রূপান্তরসহ একাধিক জাতীয় দৈনিকে ভরাট সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়।

মামলার বিবাদীরা হলেন— ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব; শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব; পরিবেশ মহাপরিচালক; হবিগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার; হবিগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক; সিলেট বিভাগের পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক; হবিগঞ্জ সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি); হবিগঞ্জ জেলার শিক্ষা কর্মকর্তা এবং হবিগঞ্জ জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেপুটি পরিচালক।

বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট এস. হাসানুল বান্না এবং তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট তৌহিদুল আলম। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জনাব তানিম খান।