বহুজাতিক নৌমহড়ার আয়োজন পাকিস্তানের

চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে বড় ধরনের নৌমহড়ার আয়োজন করছে পাকিস্তান। দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রধারী এই দেশটির আয়োজিত দ্বিবার্ষিক বহুজাতিক এই নৌমহড়ায় অংশ নেবে বাংলাদেশ, তুরস্কসহ বিশ্বের ৬০টি দেশ। তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, আগামী ৭ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি দেশটির প্রধান বন্দরনগরী করাচির কাছে আরব সাগরের উত্তরে আমান (শান্তি)-২৫ নামে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। পাঁচ দিনব্যাপী চলবে এই মহড়া।

২০০৭ সাল থেকে পাকিস্তান এ ধরনের বহুজাতিক সামরিক মহড়ার আয়োজন করে আসছে। নিরাপদ সমুদ্র, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎÑ এই সেøাগান সামনে রেখে চলতি বছর নবম বারের মতো এই মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। এই মহড়ার প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম অংশগ্রহণকরা দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সংলাপ। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ কৌশল প্রণয়নের জন্য সব দেশের নৌবাহিনীর প্রধান, কোস্ট গার্ড প্রধান এবং সারা বিশ্বের সিনিয়র মেরিটাইম নেতারা একত্রিত হবেন।

পাঁচ দিনব্যাপী ব্যাপক এই মহড়ায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জাহাজ, বিমান, স্পেশাল অপারেশনস ফোর্সেস, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী দল, মেরিন ও পর্যবেক্ষকরা অংশগ্রহণ করবেন। পাকিস্তানের নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, আমান সিরিজের এই মহড়া আঞ্চলিক শান্তি ও সহযোগিতার প্রচারে পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রচেষ্টার একটি অংশ। আমানের উদ্বোধনী মহড়ার সেøাগান ছিল, শান্তির জন্য একসঙ্গে। ২৮টি দেশের অংশগ্রহণ প্রথম সেই মহড়াটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আর ২০২৩ সাল নাগাদ প্রধান নৌশক্তিসহ মহড়ায় অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ৫০টিরও বেশিতে উন্নীত হয়। এদিকে করাচিতে অনুষ্ঠিতব্য এই মহড়ায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা সমুদ্র জয় এরই মধ্যে রওনা হয়েছে। নৌবাহিনী জাহাজটির অধিনায়ক ক্যাপ্টেন মো. শাহরিয়ার আলমের নেতৃত্বে ৩৩ কর্মকর্তা, ৫৮ প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তাসহ ২৭৪ নৌ সদস্য আন্তর্জাতিক এই ফ্লিট রিভিউতে অংশগ্রহণ করবেন। এর আগে ২০০৭, ২০০৯ ও ২০১৩ সালেও বাংলাদেশ নৌবাহিনী আমান মহড়ায় অংশগ্রহণ করে পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।