ফেসবুক থেকে ক্লায়েন্ট খুঁজবেন

আপনি ফেসবুক মার্কেটার হতে চান। ফেসবুক থেকে কীভাবে  ক্লায়েন্ট খুঁজবেন বুঝতে পারছেন না। ক্লায়েন্ট খোঁজার কিছু কার্যকর উপায় আছে। উপায়গুলো কী কী জেনে নিন।

ফেসবুক প্রোফাইল এমনভাবে বানাতে হবে যেন লোকে দেখামাত্র প্রোফাইলে আকৃষ্ট হয়ে যায়।

যেভাবে সাজাবেন

প্রোফাইল পিকচারে ক্লিন এবং প্রফেশনাল ছবি দেওয়া। যেন দেখলেই মনে হয় আপনি অনেক প্রফেশনাল। কাভার ফটোতে নিজের কাজের এক ঝলক দেওয়া যাবে। যেমন মার্কেটিং সার্ভিস লিখে আকর্ষণীয় ব্যানার দেওয়া। বায়োডাটাতে লিখতে হবে ‘আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটার। আপনার ব্র্যান্ডকে পরবর্তী লেভেলে নিতে সাহায্য করতে চাই।’ এই ধরনের বাক্য থাকলে ক্লায়েন্ট প্রোফাইল দেখবেন। বায়োডাটাতে আকর্ষণীয় কিছু না

থাকলে ক্লায়েন্ট আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।

নিশ গ্রুপে গিয়ে কাজ করা। আপনার সেবা বা পণ্য সম্পর্কিত গ্রুপগুলো যুক্ত করেন। যুক্ত করলেই হবে না। ক্লায়েন্টের সমস্যার সমাধানও করতে হবে। কেউ যদি গ্রুপে প্রশ্ন করেন, তাদের সুন্দর করে সঠিক উত্তর দিতে হবে। সমস্যার সমাধান দেওয়ার সময় একটু নাটকীয়তা ও আনন্দপূর্ণ কিছু যোগ করতে পারেন। যেমন কেউ যদি জিজ্ঞেস করে, ‘আমার পেজের রিচ কমে গেছে, কী করব। আপনি উত্তর দিতে পারেন আপনার পেজের জন্য একটা কন্টেন্ট প্ল্যান করতে পারেন। আমি সাহায্য করতে পারি। এ বিষয়ে ইনবক্সে কথা বলা যায়। আপনি হয়তো ভাবতে পারেন এতে আপনার লাভ কী এবং আপনি কেন করবেন। আসলে এর ফলে ক্লায়েন্ট বুঝবেন আপনি জানেন কীভাবে কাজ করতে হয়। এর থেকেই তারা আপনাকে ক্লায়েন্ট হিসেবে বেছে নিতে পারেন।

বিজনেস পেজ চালু করতে পারেন। নিজস্ব ‘ব্র্যান্ড’ বানান। ফেসবুক পেজ হলো আপনার পণ্য বা সেবার ‘অনলাইন অফিস’। এটা এমনভাবে সাজাবেন, যেন লোকজন বুঝতে পারে, আপনি অনেক বেশি প্রফেশনাল এবং আপনার কাছে তার সমস্যার সমাধান পাবেন।

পেজে কী ধরনের পোস্ট করবেন? পোটফোলিওতে আপনার কাজের নমুনা থাকবে। যেমন, ‘আপনার ডিজাইন করা পোস্টার, যা ক্লায়েন্টের সেল দ্বিগুণ করেছে।’কন্টেন্ট শেয়ার করা। যেমন, ক্লায়েন্টের সমস্যার সমাধান দিতে এমন কিছু পোস্ট করুন, যা সত্যিই কাজে লাগে।

রিভিউ পোস্ট করা : আগের ক্লায়েন্টদের ফিডব্যাক শেয়ার করা। আর এসব করলে আপনার পেজ দেখে মানুষ ভরসা পাবে এবং ইনবক্সে যোগাযোগ করবে।

মেসেঞ্জারে রিচ পাঠান, কিন্তু ‘স্প্যাম’ করা যাবে না। সরাসরি মেসেঞ্জারে ক্লায়েন্টের কাছে যাবে। কিন্তু আগে একটু রিসার্চ করে নিতে হবে। ক্লায়েন্টের পেজ বা প্রোফাইলে গিয়ে দেখেন তাদের সমস্যাটা কী হতে পারে। এমনভাবে মেসেজ করুন যেটা দেখে তারা বুঝতে পারেন আপনি সমস্যার সমাধান দিতে চান। লিখতে পারেন

আমি দেখলাম আপনার পেজে পোস্টগুলোর ভিউ কম। সঠিক মার্কেটিং প্ল্যান দরকার। আমি এই কাজে আপনাকে সাহায্য করতে পারি। কীভাবে করতে পারেন সেটা নিয়ে আগ্রহ থাকলে আমরা আলোচনা শুরু করতে পারি। লাইভে আপনার দক্ষতা তুলে ধরুন। ফেসবুক লাইভ এমন এক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আপনি সরাসরি মানুষকে আপনার দক্ষতা দেখাতে পারেন। লাইভে গিয়ে ক্লায়েন্টের সাধারণ সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলুন। যেমন কীভাবে একটি পেজের রিচ বাড়ানো যায় বা কীভাবে আকর্ষণীয় লোগো তৈরি করতে হয়। লাইভের মাধ্যমে অনেকেই দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে সরাসরি যোগাযোগ করবেন।

কন্টেন্ট শেয়ার করে ফলোয়ার বাড়ান। আপনার নিশ রিলেটেড ইন্টারেস্টিং পোস্ট দিন। সেটা হতে পারে যেমন ‘আপনার পেজের রিচ বাড়ানোর ৩টি সহজ উপায়।’ মানুষের সমস্যা সমাধান করে এমন পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, আর ফলোয়ার বাড়ে।

টেস্টিমোনিয়াল দিয়ে বিশ্বাস তৈরি করুন। আগের ক্লায়েন্টদের ফিডব্যাক বা রিভিউ শেয়ার করুন। তাদের ভালোলাগা ও সফলতার গল্প লিখে পোস্ট করুন। মানুষ অন্যদের সফলতার গল্প দেখে আপনার ওপর বিশ্বাস অর্জন করবেন।

 সীমিত সময়ে কাজের অফার দিতে পারেন। যেমন : নতুন বছরের শুরুতে যে আগে যোগাযোগ করবে এমন ১০ জন ক্লায়েন্টকে ফ্রি মার্কেটিং প্ল্যান দিতে পারেন।

স্টোরি ব্যবহার করে টিজার বানান। কাজের হাইলাইটসগুলো স্টোরিতে দিন। নতুন সার্ভিস বা অফারের টিজারও দিতে পারেন। উদাহরণ : নতুন ক্লায়েন্টের জন্য স্পেশাল অফার আসছে! এমন ধরনের পোস্ট দিয়ে আকৃষ্ট করুন।

ফেসবুক অ্যাডে চমক দেখান। ফেসবুক অ্যাড চালিয়ে নিশ অডিয়েন্সকে টার্গেট করুন। বয়স, লোকেশন, ইন্টারেস্ট অনুযায়ী ক্লায়েন্ট খুঁজে বের করুন। ফেসবুক অ্যাড দ্রুত অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছানোর জন্য সবচেয়ে কার্যকর পন্থা। ফেসবুক থেকে ক্লায়েন্ট পেতে হলে শুধু কাজ জানলেই হবে না, সঠিক কৌশলও জানতে হবে। ওপরের বিষয়গুলো ফলো করলে, ক্লায়েন্টরা নিজেরাই আপনার কাছে আসবেন।