চাকরি যখন হুমকির মুখে

অফিস যেন প্রকৃতির মতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাজের গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন হতে পারে। আপনার চাকরি কখনো হুমকির সম্মুখীন কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ রকম পরিস্থিতিতে একজন কর্মজীবীর কী করা উচিত জেনে নিন। লিখেছেন সৈয়দ আখতারুজ্জামান

আপনি কর্মকর্তা ও পদবি হিসেবে যোগ্য- এটাই শেষ কথা নয়। যদি অল্প বেতনে আপনার চেয়ে যোগ্য কাউকে পাওয়া যায় তাহলে আপনার চাকরি হুমকির সম্মুখীন হতে পারে। তাই চাকরির বাজারের খোঁজখবর রাখতে হবে। ‘চাকরি পেয়ে গেছি, মাস শেষে বেতন পাচ্ছি’ মানেই আপনি সবসময়ের জন্য নিরাপদ নন।

বসের সুনজরে থাকাটা নিরাপত্তার একটা ধাপ হিসেবে গণ্য হতে পারে। বলা যেতে পারে, আপনি হয়তো ভুলভাবে মূল্যায়িত হবেন না। কিন্তু আগামীকাল থেকে কোনো অজ্ঞাত কারণে আপনার বস যদি আপনাকে সুনজরে না দেখেন? সুতরাং আপনার কার্যক্রম সম্পর্কে বসের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। বস অখুশি মানে আপনি অথৈ সাগরে আছেন। দ্রুত কিনারা খুঁজে বের করতে হবে।

অনেকগুলো খুবই প্রচলিত সাধারণ কারণ আছে, যেগুলো বলাই বাহুল্য, যেসব কারণে আপনি অবশ্যই চাকরি হারাবেন। বরং না হারানোটাই অন্যায়। যেমন, আপনার দক্ষতা যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়। যদিও আপনার চোখের সামনেই অনেক অযোগ্য লোক দিব্যি মাস শেষে বেতন নিচ্ছেন অর্থাৎ তাদের চাকরি টিকে আছে। তার মানে এই নয় যে, সেটা চিরদিন চলবে। আর ব্যতিক্রম কখনো নিয়ম হতে পারে না। তাই এই সাধারণ কারণগুলো সম্পর্কে আপনি অন্তত সবসময় সচেতন থাকবেন।

আরেকটি সম্পূর্ণ উল্টো এবং দুঃখজনক কারণ আছে। আপনি যদি বসের তুলনায় বেশি দক্ষ থাকেন আর এই কারণে বস যদি আপনাকে ঝুঁকিপূর্ণ করেন। তাই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি দক্ষতা জাহির করা কখনো কখনো কাল হয়ে উঠতে পারে।

একইভাবে আপনার অধস্তনরা যদি আপনার চেয়ে দক্ষ হয়ে ওঠেন তাহলেও আপনার চাকরি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। শুধু পদবি-বলে খুব বেশিদিন বস হিসেবে টিকে থাকা যায় না। 

শুনে তাজ্জব বনে যেতে পারেন, আপনি দক্ষ কর্মকর্তা হলে পদে পদে বিপদ ধেয়ে আসতে পারে। কারণ মূলত একটাই, আপনি অন্যদের চেয়ে দক্ষ। জেনেবুঝেও মানেন আর না মানেন তবুও শুনে নিন, আপনার চারপাশে শত্রু আছে। শত্রুর পেতে রাখা ফাঁদে পা দিয়ে যদি আপনি অফিস রাজনীতির শিকার হয়ে আপনার চাকরি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আপনি অন্য কোথাও চাকরি খুঁজছেন বা বর্তমান চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন এমন খবর যদি টপ ম্যানেজমেন্ট জানতে পারে তাহলেও বিপদ ঘনিয়ে আসতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানব সম্পদ বিভাগ আপনাকে ডাকবে। যদি আপনি মূল্যবান হন, আপনাকে ধরে রাখার জন্য কাউন্সেলিং করবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আপনাকে ডাকবেই না। তাই যতক্ষণ চাকরিতে বহাল আছেন আপনার এই ধরনের কার্যক্রম গোপন রাখুন এবং মনোযোগ দিয়ে কাজ করুন। চাকরি যখন ছাড়বেন প্রতিষ্ঠানের বিধি মেনেই ছাড়বেন।

প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত বিধিনিষেধ মেনে না চলেন তাহলে আপনার চাকরি চলে যেতে পারে। কিন্তু এর পরেও অনেকের চাকরি টিকে থাকে। হয়তো খেয়াল করে থাকবেন, অফিসে কেউ কেউ অনেক দেরি করে আসেন তবুও বস তাকে বকা দেন না। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের খুব দক্ষ কর্মকর্তাদের এই বিশৃঙ্খলা কখনো কখনো ওভারলুক করা হয়। সব কিছুর সীমারেখা আছে। প্রতিষ্ঠানের সীমারেখা অতিক্রম করে বিধি ভেঙেও টিকে আছেন হয়তো। এটা কিন্তু শেষ কথা নয়। যেকোনো দিন চাকরি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নতুন বস এলে আপনার চাকরি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আগে সুনামের সঙ্গেই কাজ করছিলেন। এতে কোনো নিশ্চয়তা নেই যে নতুন বস আপনাকে একইভাবে মূল্যায়ন করবেন। সুতরাং নতুন বস মানেই নিজেকে নতুনভাবে স্থাপন করার কাজ শুরু করা উচিত।