ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে একপ্রকার শীতলতা নেমে এসেছে। দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়নি এখনও। এতে সাধারণ মানুষ ছাড়াও বিপাকে পড়ছেন ঢাকা-কলকাতার শিল্পীরা। প্রভাব পড়ছে নানা ক্ষেত্রে। তাই চলচ্চিত্র শিল্পের সুবিধার জন্য বাংলাদেশ-ভারত সমস্যার দ্রুত সমাধান চান পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় গায়ক-নির্মাতা অঞ্জন দত্ত।
পিটিআইকে তিনি বলেন, ‘কলকাতা এবং ঢাকার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে বাংলাদেশের সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এই দুই দেশেরই খুব বড় একটা বাজার রয়েছে। এটি দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশেও অঞ্জন দত্তের একটি বড় ফ্যান ফলোয়িং রয়েছে। অঞ্জন দত্ত বলেন, ‘রাজনীতি মানুষকে ভাগ করে দেয়, কিন্তু শিল্প ঐক্যবদ্ধ করে।’
পিটিআইকেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি চাই বর্তমান অচলাবস্থার দ্রুত সমাধান হোক। শিল্প এবং সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আমাদের একটা বড় বাজার রয়েছে। সেটা দুই দেশের জন্য খুলে যাওয়া প্রয়োজন। এতে দুই পক্ষেরই উপকার হবে।’
অঞ্জন দত্ত আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক সংবেদনশীল মানুষ রয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই দারুণ সিনেমা নির্মাতা, থিয়েটার ব্যক্তিত্ব এবং গায়ক। এত সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে বলি দেওয়া উচিত নয়।’
তিনি জানান, আমি বরাবরই শিল্পক্ষেত্রে রাজনীতির বিরোধী। রাজনীতি মানুষকে ভাগ করে, অথচ শিল্প মানুষকে একত্রিত করে।
অঞ্জন দত্ত অভিনীত ‘এই রাত তোমার আমার’ শিগগিরই মুক্তি পেতে চলেছে। এই সিনেমায় তার সহ-অভিনেতা হিসেবে থাকছের অপর্ণা সেন। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত এই সিনেমায় এক বৃদ্ধ দম্পতির সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরা হয়েছে।
‘এই রাত তোমার আমার’ ছবিতে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে অঞ্জন দত্ত বলেন, ‘পরমব্রতের পরিচালনায় কাজ করে ভীষণ আনন্দ পেয়েছি।’
বর্তমান প্রজন্মের পরিচালকরা অভিনয়ের তুলনায় প্রযুক্তিগত দিক নিয়েই বেশি চিন্তিত বলে আক্ষেপ করেন অঞ্জন দত্ত। তিনি বলেন, ‘অ্যাক্টর্স ডিরেক্টরের কনসেপ্টটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। এখনকার পরিচালকরা লেন্স এবং ড্রোন শট নিয়েই বেশি ব্যস্ত। ফলে অভিনেতারা অনেক সময় অসহায় বোধ করেন।’
পরমব্রতর বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আমি তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে 'দ্য বং কানেকশন' সিনেমায় কাস্ট করেছিলাম। এরপর ও নিজের পথে এগিয়ে গেছে এবং আরও সাবলীল হয়ে উঠেছে।