মেলবোর্ন পার্কে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ নয়, বরং বিতর্কই দখল করল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।পুরুষদের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনালে বিশ্বের ১ নম্বর ইয়ানিক সিনার সহজেই ২ নম্বর আলেকজান্ডার ভেরেভকে উড়িয়ে তার তৃতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম ও মেলবোর্নে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিতলেন। পুরো ম্যাচে একটিও ব্রেক পয়েন্টের মুখোমুখি হতে হয়নি সিনারকে।
তবে ম্যাচ-পরবর্তী দৃশ্যপট ছিল টেনিসের চেয়ে ভিন্ন। পরাজয়ের পর ভেরেভ যখন রানার্সআপের বক্তব্য দিতে মাইক্রোফোন হাতে নেন, তখন এক দর্শক চিৎকার করে বলেন, 'অস্ট্রেলিয়া ওলিয়া এবং ব্রেন্ডাকে বিশ্বাস করে।' বারবার এই কথাটি বলার পর নিরাপত্তা কর্মীরা ওই দর্শককে স্টেডিয়াম থেকে বের করে দেন।
ভেরেভের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের পটভূমি
ভেরেভের ব্যক্তিজীবনের কিছু অস্বস্তিকর অধ্যায় এই প্রতিবাদের কারণ। তার দুই প্রাক্তন সঙ্গী—ওলিয়া শারিপোভা এবং ব্রেন্ডা পাতেয়া (যিনি তার সন্তানের মা)—তার বিরুদ্ধে গৃহহিংসার অভিযোগ এনেছিলেন। শারিপোভা দাবি করেছিলেন, ভেরেভ তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেছিলেন এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করেছিলেন। অপরদিকে, পাতেয়া অভিযোগ করেছিলেন, গর্ভাবস্থার সময় ভেরেভ তার প্রতি সহিংস আচরণ করেছিলেন।
ভেরেভ বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ২০২৩ সালে এটিপি একটি স্বাধীন তদন্ত করে শারিপোভার অভিযোগকে প্রমাণের অভাবে খারিজ করে। পাতেয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায়। তবে গত মে মাসে দুই পক্ষ একটি গোপন সমঝোতায় পৌঁছায়। সমঝোতার ফলে ভেরেভ 'নির্দোষ' হিসেবে গণ্য হন, তবে অভিযোগগুলো প্রমাণিত বা মিথ্যা—কোনোটাই নিশ্চিত হয়নি। আদালত এটিকে 'অমীমাংসিত সত্য' বলে উল্লেখ করে।
পরিস্থিতি নিয়ে ভেরেভ ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'আমার মনে হয়, আর কোনো অভিযোগ নেই। গত নয় মাসে কিছুই ঘটেনি। স্টেডিয়ামে তিনিই একমাত্র ছিলেন, যিনি কিছু বিশ্বাস করতেন।'
সিনারের জয়, কিন্তু আলোচনায় ডোপিং বিতর্ক
ফাইনালের আরেকটি বড় দিক ছিল ইয়ানিক সিনারের ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ। এক বছরেরও বেশি আগে ডোপিং পরীক্ষায় নিষিদ্ধ পদার্থ ক্লোস্টেবল ধরা পড়ায় তিনি তদন্তের মুখোমুখি হন। যদিও স্বাধীন ট্রাইব্যুনাল তাকে ইচ্ছাকৃত ভুল থেকে মুক্তি দেয়, বিশ্ব ডোপিং সংস্থা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। ১৬-১৭ এপ্রিল আদালতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
শুনানির ফলে সিনারের ক্যারিয়ার বড় ধাক্কা খেতে পারে। সামান্য শাস্তি পেলেও তিনি অন্তত পরবর্তী তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম মিস করতে পারেন।
নতুন প্রজন্মের টেনিস তারকা, কিন্তু অস্বস্তির ছায়া
যেখানে সিনার এবং কার্লোস আলকারাজের উত্থান পুরুষদের টেনিসে নতুন যুগের আশা জাগাচ্ছে, সেখানে সিনারের সঙ্গে যুক্ত ডোপিং বিতর্ক খেলাটিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। এর আগেও মিকা এল ইয়েমার এবং সিমোনা হালেপের ক্ষেত্রে প্রাথমিক রায় পরে বদলেছে, যা সিনারের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
নারীদের বিভাগে ম্যাডিসন কিসের নাটকীয় ফাইনাল জয়ে যেমন দারুণ উত্তেজনা ছিল, পুরুষদের ফাইনাল বরং খেলাটির কিছু অস্বস্তিকর দিক সামনে নিয়ে এলো।
পর্দার মেসি থেকে বাস্তবের মেসির পথে
ইউরোপের যে মাঠ মুগ্ধ করেছিল মেসি-রোনালদোকে
উইন্ডিজে ফের ব্যর্থ জ্যোতিরা, বড় হারে সিরিজ শুরু