দুর্বার রাজশাহীর চেক আবারও বাউন্সের অভিযোগ

বিপিএলে পারিশ্রমিক সমস্যা যেন দুর্বার রাজশাহীর নিয়মিত সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর ক্রিকেটারদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পারিশ্রমিকের চেক। তবে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সেই চেক থেকে কোনো টাকা তাদের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, আবারও চেক বাউন্স করেছে।

রাজশাহীর পারিশ্রমিক সমস্যা প্রথম প্রকাশ্যে আসে চট্টগ্রাম পর্বে। ১৫ জানুয়ারি কোনো টাকা না পাওয়ায় অনুশীলন বয়কট করেন দলটির ক্রিকেটাররা। এমনকি ১৭ জানুয়ারির ম্যাচ না খেলারও হুমকি দেন তারা। বিসিবির হস্তক্ষেপে এবং ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক পরিশোধ করার আশ্বাসে তারা মাঠে ফিরলেও সমস্যার সমাধান হয়নি।

সর্বশেষ, রোববার ম্যাচের আগে বিদেশি ক্রিকেটাররা মাঠে আসতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে দেশি ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া একাদশ মাঠে নামিয়ে রংপুরকে হারায় রাজশাহী। এরপর ক্রিকেটারদের হাতে নতুন করে দেওয়া হয় চেক। কিন্তু সেই চেকও প্রত্যাখ্যাত হয় বলে অভিযোগ।

মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ক্রিকেটারদের ব্যাংক হিসাবে কোনো টাকা জমা হয়নি। দলটির ওপেনার সাব্বির হোসেন অবশ্য আশাবাদী, ব্যাংক বন্ধ হওয়ার আগে টাকা জমা হবে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রিকেটার জানালেন, বারবার চেক বাউন্স হওয়ায় ব্যাংকের কাছে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন তারা।

দলটির ম্যানেজার মেহরাব হোসেন অপি গণমাধ্যমেকর্মীদের বলেন, 'ক্রিকেটারদের ২৫ শতাংশ দেওয়া হয়েছে। পরশু আরও ২৫ শতাংশ অর্থের চেক দেওয়া হয়েছে। তবে আমার কাছে এখনও কোনো ক্রিকেটার চেক বাউন্সের বিষয়ে অভিযোগ করেনি।'

অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে অপি জানালেন, 'আমি নিজেও টাকা পাইনি। মালিকপক্ষ তারিখ দিয়েছে, সেই দিনের অপেক্ষায় আছি। তবে বাকিদের দেওয়া হয়েছে।'

বিসিবির পরিচালক মাহবুব আনাম শনিবার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু ৭২ ঘণ্টা পার হলেও কোনো সমাধান আসেনি।

ক্রিকেটাররা টিম হোটেলে বসে নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসছেন এবং মালিকপক্ষের কাছে সমাধান চাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তাদের বক্তব্য, 'টুর্নামেন্ট প্রায় শেষ। এখন ছেড়ে দিলে কিছুই পাব না। মালিকপক্ষকে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে।'

১২ ম্যাচে ৬ জয়ে রাজশাহী প্লে-অফের খুব কাছাকাছি থাকলেও এই সমস্যা দলটির পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে। প্লে-অফে জায়গা নিশ্চিত করতে মালিকপক্ষের উচিত দ্রুত এই সংকট সমাধান করা।

ক্রিকেটারদের হতাশা ফুটে উঠছে তাদের কথায়। এক ক্রিকেটার জানান, 'বারবার চেক বাউন্স হওয়ায় ব্যাংকের কাছে বিব্রত হচ্ছি। মালিকপক্ষ কী করতে চায়, কিছুই বুঝতে পারছি না।'

টুর্নামেন্ট শেষের পথে। মালিকপক্ষের অস্পষ্টতা এবং পারিশ্রমিক সমস্যা শুধু রাজশাহীর ক্রিকেটারদের নয়, পুরো লিগের ভাবমূর্তিতেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।