একই সময়ে মাঠে নামছে ৩৬ দল, নতুন ফরম্যাটে জমে উঠেছে চ্যাম্পিয়নস লিগ

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:৫৯ পিএম

ইউরোপিয়ান ফুটবলের নতুন 'লিগ পদ্ধতি'-তে বুধবার রাতটা হতে চলেছে টানটান উত্তেজনায় ভরা। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ রাউন্ডে ১৮টি ম্যাচ একসঙ্গে শুরু হবে, যেখানে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে থাকবে বড় বড় ক্লাবগুলো। উয়েফার নতুন নিয়মে এমন রাত আগে কখনো দেখা যায়নি।

চ্যাম্পিয়নস লিগের এই লিগ পর্বে পয়েন্ট তালিকার হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা বোঝাতে উয়েফা ক্লাবগুলোকে সিমুলেটর নামে একটি বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করতে বলেছে। ম্যাচ চলাকালে যেকোনো সময় পয়েন্ট তালিকার পরিবর্তন ও সম্ভাব্য ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে জানা যাবে।

এমন ঘন ঘন পরিবর্তন হওয়া পয়েন্ট তালিকা তৈরির মূল কারণ নতুন ধাপে ধাপে খেলার নিয়ম। তবে এই পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। অনেকেই একে ইউরোপিয়ান সুপার লিগের গোপন সংস্করণ মনে করছেন। কিন্তু টুর্নামেন্টের উত্তেজনা এবং নাটকীয়তা এই পদ্ধতিকে আপাতত জনপ্রিয় করে তুলেছে।

জটিল লড়াইয়ে নামছে জায়ান্টরা

শেষ রাউন্ড শুরুর আগে পয়েন্ট তালিকার অবস্থা এমন যে, তৃতীয় স্থানে থাকা আর্সেনাল এবং ১৩তম স্থানে থাকা ব্রেস্টের মধ্যে ব্যবধান মাত্র ৩ পয়েন্ট। অথচ ম্যানচেস্টার সিটি এবং পিএসজি, যারা এই পদ্ধতিতে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার কথা, তারাও প্লে-অফে যাওয়ার জন্য লড়ছে। অন্যদিকে, বায়ার্ন মিউনিখ এবং রিয়াল মাদ্রিদও নিজেদের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

এই প্রতিযোগিতা যেমন মাঝারি ক্লাবগুলোকে উন্নতি করার সুযোগ দিয়েছে, তেমনই বড় দলগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সবাই কোনো না কোনোভাবে কিছু না কিছু পাচ্ছে এই পদ্ধতিতে। উদাহরণস্বরূপ, টেবিলের একেবারে নিচে থাকা ইয়াং বয়েজ এবং রেড স্টার বেলগ্রেডের ম্যাচও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এক জয়ই ক্লাবগুলোকে বড় অঙ্কের পুরস্কার এনে দিতে পারে।

দুর্বলতার প্রকাশ ও সমালোচনা

তবে নতুন নিয়মের কিছু সমস্যা প্রকাশ পেয়েছে। যেমন, গোল ব্যবধানের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য ক্লাবগুলোকে আক্রমণাত্মক খেলায় বাধ্য করা হয়েছে, যা দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষে বড় বড় পরাজয়ের কারণ হয়েছে। তাছাড়া পূর্ব ইউরোপের ক্লাবগুলো টুর্নামেন্টের সেরা ২৪ দলে জায়গা করতে পারবে না বলেই মনে হচ্ছে। এটি ইউরোপিয়ান ফুটবলের সামগ্রিক চিত্রকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

বড় ক্লাবের জন্য স্বস্তি, ছোটদের জন্য অনুপ্রেরণা

বুধবার রাতে পিএসজি এবং ম্যানচেস্টার সিটির প্লে-অফ নিশ্চিত করার সম্ভাবনাই বেশি। তবে এর ব্যতিক্রম হলে তা বড় ক্লাবের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসবে। বিশেষ করে পিএসজির সভাপতি নাসের আল-খেলাইফি যেভাবে এই নতুন পদ্ধতিকে সমর্থন দিয়েছিলেন, তা বিফলে গেলে উয়েফার জন্য এটি বিব্রতকর হবে।

এই পদ্ধতির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে বুধবার রাতের নাটকীয়তার ওপর। যদি নতুন নিয়ম উত্তেজনা ধরে রাখতে পারে, তবে এটি আরও জনপ্রিয় হবে। তবে উয়েফাকে অবশ্যই ছোট দলগুলোর জন্য আরো সুযোগ তৈরি করতে হবে, যাতে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য বজায় থাকে।

'এমন উত্তেজনাপূর্ণ দৃশ্য আমরা অনেক দিন মিস করছিলাম,' মন্তব্য করেছেন উয়েফার এক কর্মকর্তা। হয়তো নতুন এই পদ্ধতি ইউরোপিয়ান ফুটবলের চেনা ধারা বদলে দিতে সক্ষম হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত