মহিউদ্দিন পুরস্কৃত মিকুর বিদায়!

বছরের পর বছর পদ আঁকড়ে রাখাদের ঠাঁই দেওয়া হবে না ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোতে। এই সিদ্ধান্তে অনড় থাকতে পারেনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। অনেক জল ঘোলা করে তারা বিভিন্ন কমিটিতে রেখে দিয়েছে সেই চিহ্নিত মুখগুলোই। বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনে তো ঘটেছে পুরস্কৃত করার ঘটনা। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ফেডারেশনে প্রভাব বিস্তার করা উইং কমান্ডার (অব.) মহিউদ্দিন আহমেদকে পুরস্কৃত করেছে সরকার। বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতিকে দেওয়া হয়েছে সভাপতির দায়িত্ব। মহিউদ্দিন পুরস্কৃত হলেও বিদায়ের পরিণতি বরণ করতে হয়েছে ক্রীড়াঙ্গনের আলোচিত মুখ আশিকুর রহমান মিকুকে। জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠকদের সংগঠন ফোরামের এই শীর্ষ নেতা দীর্ঘদিন ধরেই ছিলেন বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। মঙ্গলবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ প্রজ্ঞাপন দিয়ে এই ফেডারেশন থেকে বিদায় করে দিয়েছে মিকুকে।

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক সংস্কারের ঘোষণা এসেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে। শুরুতেই তারা সবকটি ক্রীড়া ফেডারেশন থেকে অপসারণ করে সভাপতিদের। এরপর সরকার কর্র্তৃক গঠিত সার্চ কমিটি শুরু করে বিভিন্ন ফেডারশনের সঙ্গে আলোচনা। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আড়াই মাস আগে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ৯টি ক্রীড়া ফেডারেশন ভেঙে দিয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছিল। সে সব কমিটিতে এমন কিছু মানুষকে দেখা গিয়েছিল, যাদের সংশ্লিষ্ট খেলার সঙ্গে কখনো সম্পৃক্ততা ছিল না। এ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হলে শেষ আড়াই মাসে আর কোনো কমিটি দেয়নি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। মঙ্গলবার অবশ্য একযোগে সাতটি ফেডারেশনে দেওয়া হয়েছে নতুন অ্যাডহক কমিটি। ভারোত্তোলন ও ভলিবল ছাড়াও নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে সাঁতার, টেবিল টেনিস, ফেন্সিং, কারাতে, শরীর গঠন ফেডারেশনে।

ভারোত্তোলন অঙ্গনে মহিউদ্দিন ভীষণভাবে আলোচিত এক চরিত্র। নানা অপকর্মের অভিযোগ যেমন আছে তার বিরুদ্ধে আবার দেশের ভারোত্তোলনকে আলোচনায় রাখতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বেশ কিছু উদ্যোগ প্রশংসিতও হয়েছে তার। বিশেষ করে তার ক্যারিশমায় বিগত তিনটি এসএ গেমসে বাংলাদেশ স্বর্ণপদক জিতেছে একাধিক। আবার বশ্যতায় না থাকলে প্রতিভাবান অনেক ভারোত্তোলকের ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। স্বাধীনতার পর থেকেই খেলাটার সঙ্গে জড়িত থেকে আন্তর্জাতিকভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেও খেলাটার অবকাঠামোগত উন্নয়নে সেভাবে কোনো অবদান রাখতে পারেননি মহিউদ্দিন। যখন যেই সরকারই দায়িত্বে এসেছে, তাদের ম্যানেজ করে টিকে গেছেন এই মহিউদ্দিন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের একাধিক মন্ত্রীকে ম্যানেজ করে তিনি সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত কয়েক বছর সাধারণ সম্পাদকের চেয়ে বেশি প্রভাব ছিল সহ-সভাপতি মহিউদ্দিনের। আর এবার তো সরকার তাকে আরও বড় পদে নিয়ে এসেছে। বানিয়ে দিয়েছে ৭ সদস্য বিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটির সভাপতি পদে।

মহিউদ্দিনের ভাগ্য অবশ্য মিকুর নেই। রাজনৈতিক পরিচয়ে এত বছর ক্রীড়াঙ্গনে প্রভাব বিস্তার করা মিকুকে ছাড়তে হয়েছে দীর্ঘদিনের পদ। প্রায় সতের বছর দুই প্রস্থে ভলিবল ফেডারেশনের নির্বাহী প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এছাড়া ফোমারের প্রভাব খাটিয়ে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেছেন মিকু। তবে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তিনি আর সুবিধা করতে পারেননি। একই সঙ্গে পারেননি বর্তমান ক্ষমতাসীনদের ম্যানেজ করতে। তাই তাকে আপাতত ব্রাত্য হয়ে যেতে হয়েছে ক্রীড়াঙ্গন থেকে।

এদিকে দীর্ঘ ১৩ বছর পর বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পদে ফিরলেন মাহবুবুর রহমান শাহীন। মাইক্রো ফাইবার গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এম এইচ জামানকে সভাপতি ও সাবেক খেলোয়াড় ও সংগঠক ক্যাপ্টেন এএম মাকসুদ আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত হয়েছে বাংলাদেশ টেবিল ফেডারেশনের ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি। যেখানে সহ-সভাপতি পদে থেকে গেছেন আলোচিত খন্দকার হাসান মুনীর। ভলিবলের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে বিমল ঘোষ ভুলুকে। কারাতে ফেডারেশনে মোয়াজ্জেম হোসেন সেন্টুকে করা হয়েছে সাধারণ সম্পাদক। ডা. কামরুজ্জামানকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত হয়েছ এ শরীরগঠন ফেডারেশন। আর ফেন্সিংয়ের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে বসুনিয়া এম আশিকুল ইসলামকে।