মধ্য-আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের সংঘাতময় পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। দেশটির বৃহত্তম শহর গোমার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর মঙ্গলবার অঞ্চলটির বিমানবন্দরের দখলও নিয়েছে রুয়ান্ডা সমর্থিত দেশটির জাতিগত তুতসি নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩। ফলে শহরটিতে থাকা হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, বিদ্রোহীদের আক্রমণের জেরে আশু ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে দেশটির রাজধানী কিনশাসায় ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারী ব্যক্তিরা জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রুয়ান্ডাসহ কয়েকটি দেশের দূতাবাসে হামলা চালিয়েছেন। পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহী এম২৩ গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর আরও চার সদস্য। চলমান এই সংঘাত যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে মানবিক সংকট তীব্র করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। তিনি বলেন, কঙ্গোর পরিস্থিতি এখন খুব অস্থিতিশীল। শহরের ভেতরে বিদ্রোহীরা শক্ত অবস্থান নিয়েছে এবং বিমানবন্দর তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা তাদের কানে এসেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ডুজারিক জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা নিজেদের ঘাঁটিতে প্রাণ রক্ষার্থে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। শহরজুড়ে অস্ত্রের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। বিদ্রোহীরা শহরের দখল নেওয়ার পর রাস্তাঘাটে মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়।
বিদ্রোহী এম২৩ গোষ্ঠী সোমবার দেশটিতে অনুপ্রবেশ করে। রুয়ান্ডা গণহত্যার প্রভাবে প্রায় তিন দশক ধরে চলা দ্বন্দ্বে এত বেশি অস্থিরতা শেষবার দেখা গিয়েছিল ২০১২ সালে। এদিকে, গোমার এক হাজার ৬০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত দেশটির রাজধানী কিনশাসাতে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি, বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের কারণেই কঙ্গোয় এই দুরবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধরা যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, কেনিয়া ও রুয়ান্ডার দূতাবাসে ভাঙচুর চালায়। ফরাসি দূতাবাসে আগুন জ্বলতে ও কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। কেনিয়ার দূতাবাসে লুটপাট চালিয়েছে অজ্ঞাত লোকজন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কঙ্গোতে অবস্থানরত দূতাবাস কর্মীদের বুধবারের মধ্যে দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জাতিসংঘের আরও ৪ শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। এতে করে দেশটিতে নিহত শান্তিরক্ষীদের সংখ্যা ১৭ জনে পৌঁছেছে। সর্বশেষ নিহত চারজন শান্তিরক্ষীও দক্ষিণ আফ্রিকার সেনা বলে বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু।