'আগুন দেখে ভেবেছিলাম সাংবাদিকরা তাদের শিরোনাম পেয়ে গেছেন'

ম্যানচেস্টার সিটির জন্য চ্যাম্পিয়নস লিগের রাতটি মাঠের বাইরেও দুশ্চিন্তার ছিল। ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে ইতিহাদ স্টেডিয়ামের বাইরে একটি মার্চেন্ডাইজ স্ট্যান্ডে ভয়াবহ আগুন লেগে যায়। জরুরি সেবাকর্মীদের দ্রুত হস্তক্ষেপে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ম্যাচ শুরুর আগে তৈরি হয় অস্বস্তিকর পরিবেশ। মাঠে নেমেও অবশ্য একই পরিস্থিতির মুখে পড়ে সিটি। প্রথমার্ধ শেষে পিছিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয়ে নিশ্চিত করেছে প্লে-অফের টিকিট।

বুধবার রাতে ক্লাব ব্রুগের বিপক্ষে ম্যাচটি জিততেই হতো পেপ গার্দিওলার দলকে। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ব্রুগের মিডফিল্ডার রাফায়েল ওনিয়েদিকারের গোলে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। তখনই মনে হচ্ছিল, মাঠের বাইরের আগুন এবার খেলা থেকেও ছিটকে দিতে পারে সিটিকে। গার্দিওলারও মনে হয়েছিল, সাংবাদিকরা শিরোনাম পেয়ে গেছেন!

ম্যাচ শেষে সিটির কোচ বলেন, 'যখন আমি খেলার আগে আগুন দেখলাম, তখন মনে হলো, সাংবাদিকরা তাদের শিরোনাম পেয়ে গেছেন! প্রথমার্ধে আমরা ছিটকে গিয়েছিলাম। যখন কিছু হারানোর থাকে না, তখন দল আরও মুক্তভাবে খেলে। আমরা সামনের দিকে এগোই, সুযোগ তৈরি করি। তবে প্রথমার্ধে আমাদের মধ্যে স্ফুলিঙ্গের অভাব ছিল।'

দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা সাবিনিয়ো ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন। গার্দিওলা বলেন, 'সাবিনিয়ো আমাদের বদলে দিয়েছে। পুরো মৌসুমে সে যখনই খেলেছে, আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে। পাঁচ-দশ মিনিটের মধ্যেই সে দুই-তিনটি কর্নার আদায় করে নেয়, সমর্থকরাও তখন জেগে ওঠে, দল উৎসাহ পায়।'

সিটির পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি আরও বলেন, 'ব্রুগে দ্বিতীয়ার্ধে প্রথমার্ধের চেয়েও বেশি সুযোগ তৈরি করেছে, কিন্তু প্রথমার্ধে তারা এতটাই আঁটসাঁট ছিল যে, আমাদের একজন ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দেখানো খেলোয়াড়ের দরকার ছিল। আমরা সেটা পাইনি। হয়তো চাপ অনুভব করছিলাম। কখনো কখনো আপনি যা জিতছেন, সেটা ধরে রাখার ভয় থাকে। আর যখন ১-০তে পিছিয়ে পড়লেন, তখন বুঝলেন আপনি চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে যাচ্ছেন। তখনই হয়তো আমরা গোলের সুযোগগুলো খুঁজতে শুরু করি।'

নতুন চ্যাম্পিয়নস লিগ ফরম্যাট নিয়ে সিটির কোচের প্রতিক্রিয়া, 'নতুন ফরম্যাটটা বেশ কঠিন। আমাদের জন্য সত্যিই কঠিন ছিল। ইন্টার মিলানের বিপক্ষে আমরা ভালো খেলেছিলাম, কিন্তু শেষ ১৫ মিনিটে ফেয়েনুর্ডের বিপক্ষে ৩-০ থেকে ৩-৩ হয়ে যায়। এরপর জুভেন্টাস বা পিএসজির মাঠে গিয়ে জেতা সহজ নয়। তবু আমরা পেরেছি, আমরা প্লে-অফে আছি।'

এই জয়ের পর ম্যানচেস্টার সিটিকে শেষ ষোলোতে যেতে হলে খেলতে হবে প্লে-অফ, যেখানে প্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা বায়ার্ন মিউনিখ। গার্দিওলা জানেন চ্যালেঞ্জটা কতটা কঠিন, 'আমরা জানি না তারা আমাদের বিপক্ষে খেলে খুশি হবে কিনা, তবে বিষয়টা এমনই। কোনো অভিযোগ নেই। আমাদের মুখোমুখি হতে হবে—একটা দল চ্যাম্পিয়নস লিগের রাজা, আরেকটা দল দ্বিতীয় বা তৃতীয়। আমরা খেলব এবং দেখব কী হয়।'

এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে হলে নিজেদের উন্নতি করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কথা বলেন গার্দিওলা, 'আমাদের অনেক উন্নতি করতে হবে। আমাদের আরও শক্তিশালী হতে হবে। প্লে-অফের সময় আমরা আরও ভালো অবস্থায় থাকব, কারণ নতুন খেলোয়াড়রা তখন পুরোপুরি মানিয়ে নেবে।'

তিনি যোগ করেন, 'এখন আমরা মনে করতে পারি, এটা অসম্ভব। কিন্তু আগামীকাল মানসিকতা বদলাবে, পরিস্থিতি বদলাবে। আমরা চেষ্টা করব। আমরা প্রতিপক্ষের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করব। আমাদের খেলোয়াড়দের বিশেষ কিছু করার সামর্থ্য আছে। আমরা চেষ্টা করব।'

গার্দিওলার কথাগুলো যেন একজন আন্ডারডগের মতো শোনায়, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিটির জন্য বিরল দৃশ্য। তবে ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই। প্রশ্ন হলো, সিটি কি তাদের মান অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারবে? নাকি তারা আরও বড় অগ্নিপরীক্ষার মুখে পড়বে?