গাজীপুরের শ্রীপুরে বেপরোয়া গতির এক অটোরিকশার চাপায় মায়ের সামনে ছটফট করতে করতে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ওই শিশুর নাম মিরাজ আহাম্মেদ (৭)। মায়ের সঙ্গে নানাবাড়ি বেড়াতে যাওয়ার সময় বেপরোয়া অটোরিকশা চাপায় তার মৃত্যু হয়। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেংরা বাজারে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে।
নিহত শিশু মিরাজ আহাম্মেদ শ্রীপুর পৌরসভার দক্ষিণ ভাংনাহাটি গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। সে বনরুপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার রোল ছিল এক। এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ঘাতক অটোরিকশা ও চালককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে লোকজন।
নিহতের স্বজনরা জানান, দুপুরের একটু আগে মা ও ছেলে শ্রীপুর চৌরাস্তা থেকে একটি অটোরিকশা করে নানা বাড়ি টেংরা যাচ্ছিল। পরে টেংরা বাজার পৌঁছে মা ও ছেলে অটো থেকে নেমে ভাড়া দেওয়ার সময় উল্টো দিক থেকে আসা দ্রুত গতির অপর একটি অটোরিকশা শিশু মিরাজকে ধাক্কা দেয়। এতে মিরাজ দূরে সড়কেই ছিটকে পড়ে। এ সময় তার মাথায় আঘাত লেগে থেঁতলে যায়। পাশেই তার মা পারভীন ভাড়া দিতে ব্যস্ত ছিলেন। আচমকা অটোরিকশা ধাক্কায় সন্তানের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারীরা জানান, কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই দ্রুত গতির বেপরোয়া এক অটোরিকশা শিশুটিকে ধাক্কা দেয়। মায়ের পাশ ঘেঁষে সড়কের পাশেই শিশুটি দাঁড়িয়ে ছিল। পরে লোকজন ঘাতক অটোরিকশা ও চালককে ধরে পুলিশে দিয়েছে। তারা বলেন, শিশুটির মাথায় গুরুতর আঘাত লেগে অধিক রক্তক্ষরণ হয়। এতেই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অজ্ঞান অবস্থায় আঘাতপ্রাপ্ত শিশুটিকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোকসানা আক্তার জানান, মৃত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন লোকজন। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে।
শ্রীপুর মডেল থানার এসআই সুজন কুমার পণ্ডিত বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে শিশুটিরর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অটোরিকশা ও ঘাতক চালককে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।