প্লে-অফে উঠে ‘রাজা’ নিয়ে চিন্তায় গার্দিওলা

চ্যাম্পিয়নস লিগে ক্লাব ব্রুজের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ম্যানচেস্টার সিটির জন্য সমীকরণটা ছিল, জিততেই হবে। ইতিহাদে যখন প্রথমার্ধের বিরতি, তখন সিটির বিদায়ের শঙ্কা আরও চোখ রাঙাচ্ছিল। কারণ ব্রুজ ০-১ গোলে এগিয়ে ছিল। তবে ঘুরে দাঁড়িয়ে দারুণ এক জয়ে (৩-১ গোল) সব শঙ্কা দূরে ঠেলে প্লে-অফ নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে ম্যানসিটি। তবে নকআউট প্লে-অফেও কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পেপ গার্দিওলার দলকে। সিটিকে খেলতে হবে রিয়াল মাদ্রিদ বা বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে। কোন দলের সঙ্গে হবে খেলা তা জানা যাবে আজ শুক্রবার।

ম্যাচে শুরু থেকেই বলের দখল রেখে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে চাপে ফেলার চেষ্টা করে সিটি। ১৬ মিনিটে গুনদোয়ানের বল জালে পাঠালেও তা বাতিল হয় অফসাইডে। উল্টো ৪৫ মিনিটে রাফায়েল অনেইদিকা গোল করলে এগিয়ে যায় ব্রুজ। বিরতির পর ভাগ্য বদলাতে গুনদোয়ানের বদলে সাভিনহোকে নামান গার্দিওলা। ৫৩ মিনিটে সিটিকে সমতায় ফেরান মাতেও কোভাচিচ। ৬২ মিনিটে বক্সে গাভার্দিওলের লো ক্রস রুখতে গিয়ে নিজের জালেই বল পাঠান ব্রুজের জোয়েল ওরডোনেজ। ৭৩ মিনিটে আর্লিং হালান্ডের চেষ্টা গোলকিপার এগিয়ে এসে ঠেকানোর পর, ফিরতি বলে সাভিনহোর শট গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন ব্রুজের এক ডিফেন্ডার। চার মিনিট পর স্কোর ৩-১ করেন সাভিনহো। স্টোন্সের ক্রস বক্সে বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কোনাকুনি শটে গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

ম্যানসিটি পয়েন্ট টেবিলে ২২ নম্বরে থেকে শেষ করেছে লিগ পর্ব। ৯ থেকে ২৪ নম্বর দল প্লে-অফ নকআউট রাউন্ডে খেলবে।

একই দিনে একই সময়ে হওয়া আরেক ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ ৩-০ গোলে হারিয়েছে ফরাসি ক্লাব ব্রেস্তকে। ম্যাচের ২৭ ও ৫৬ মিনিটে গোল করেন রদ্রিগো। ৫৬ মিনিটে গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতল কার্লো আনচেলত্তির দল। রিয়াল ১৫ পয়েন্টে থেকে গোল ব্যবধানের হিসেবে শেষ করেছে টেবিলের ১১ নম্বরে থেকে।

জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ ৩-১ গোলে হারিয়েছে সেøাভান ব্রাতিসলাভাকে। বায়ার্নের হয়ে তিনটি গোল করেন টমাস মুলার, হ্যারি কেইন ও কিংসলে কোম্যান। জার্মান এই ক্লাবটিরও পয়েন্ট ১৫। তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে তার আছে ১২ নম্বরে।

আর এ কারণেই সিটিকে নকআউট প্লে-অফে খেলতে হতে পারে রিয়াল বা বায়ার্নের সঙ্গে। কারণ এবারের নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী পয়েন্ট টেবিলের ২২ নম্বরে থাকা দলের প্লে-অফ খেলা হবে ১১ বা ১২ নম্বরে থাকা দলের সঙ্গে।

রিয়ালের কোচ আনচেলত্তি বলেন, ‘সিটির চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের সম্ভাবনা বেশি (সেল্টিকের তুলনায়)। সিটিকে পেলে তাই আমাদের কাজ বেশি কঠিন হবে। সিটির বিপক্ষে খেলতে আমরা পছন্দ করি না। তবে যদি খেলতেই হয়, অন্য সময়গুলোর মতোই আমরা মাঠে নামব।’

আর ম্যানসিটি কোচ পেপ গার্দিওলা বলেন, ‘জানি না, তারা আমাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়ে খুশি কি না, তবে বাস্তবতা তো এটাই। তাদের বিপক্ষে খেলতে হবে আমাদের। একটি দল তো টুর্নামেন্টের রাজা (রিয়াল মাদ্রিদ), আরেক দল সম্ভবত দ্বিতীয় বা তৃতীয় রাজা। রিয়াল গত কিছুদিনে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে আর ভিনির (ভিনসেন্ট কম্পানি) কোচিংয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটাচ্ছে বায়ার্ন। আমরা এই টুর্নামেন্টে খেলেছি হাজার লাখ সমস্যাকে সঙ্গী করে। এই মুহূর্তে ওরাই ফেভারিট, আমাদের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে ওরা।’