ফেসবুক লাইভে ওসিকে প্রাণনাশের হুমকি

চট্টগ্রামে পাঁচ মাসের ব্যবধানে তিনজনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের বিরুদ্ধে। গত বছর ৫ ডিসেম্বর তাকে ধরতে গেলে উল্টো হামলার মুখে পড়তে হয় পুলিশকে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে ফেসবুক লাইভে নগর-পুলিশের এক কর্মকর্তাকে প্রাণনাশেরও হুমকিও দিয়েছেন দুর্ধর্ষ এই সন্ত্রাসী। হত্যা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ অন্তত এক ডজন মামলার আসামি তিনি।

গত মঙ্গলবার রাতে ফেসবুক লাইভে নগর-পুলিশের বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি আরিফুর রহমানকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে নগর-পুলিশ প্রশাসন। তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তথ্য প্রদানকারীকে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ।

এদিকে মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী সাজ্জাদ দেশ ছেড়ে পালানোর তথ্য দিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহবুব আলম। র‌্যাব-৭-এর শীর্ষ এই কর্মকর্তার দাবি, দুর্ধর্ষ এই সন্ত্রাসী বিদেশে পালানোর তথ্য র‌্যাবের কাছে আছে। তবু তার বিষয়ে খোঁজখবর রাখছে র‌্যাব। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলেই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

তবে সাজ্জাদ কখন, কোন মাসে বা কীভাবে দেশ থেকে পালাতে সক্ষম হয়েছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেনি র‌্যাব।

চট্টগ্রাম নগর-পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) রইছ উদ্দিন বলেন, ‘গত বছরের ৫ ডিসেম্বর অক্সিজেন এলাকায় তাকে তো আমরা ধরেই ফেলছিলাম। সে পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ করে পালিয়ে যায়। তাকে ধরতে সহায়তাকারী তথ্যদাতাকে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।’

সাজ্জাদ বিদেশে পালানোর বিষয়ে র‌্যাব-৭ অধিনায়কের তথ্য সঠিক ধরে নিলে কিছু প্রশ্ন সামনে চলে আসে। ট্রিপল মার্ডারসহ অন্তত একডজন মামলার আসামি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে বিদেশে চলে গেলেন? সিএমপির অন্যতম শীর্ষ এক কর্মকর্তার অভিমত, সাজ্জাদের ফেসবুক লাইভ বিদেশে অবস্থান করার ইঙ্গিত বহন করে। কারণ তিনি দেশে থেকে একজন ওসিকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ধৃৃষ্টতা দেখাবেন বলে মনে হয় না।

১৯ মিনিট ২৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিও বার্তায় বায়েজিদ থানার ওসি আরিফুর রহমানকে প্রাণনাশের হুমকির একপর্যায়ে পুলিশ কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে সাজ্জাদ বলেন, ‘ওসি আরিফ আমার নামে পরপর তিনটি মামলা দিয়েছেন। যেকোনো সময় আমি আদালতে আত্মসমর্পণ করে ফেলব। কারণ আমি ঘটনাগুলোয় ছিলাম না..।’

জানা গেছে, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, নগরের বায়েজিদ বোস্তামী, চান্দগাঁও এবং পাঁচলাইশ এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক এই সাজ্জাদ। সবশেষ গত বছরের ১৭ জুলাই চান্দগাঁও থানা-পুলিশ অস্ত্রসহ সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে। অবশ্য পরের মাসে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন। ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার কালারপুল এলাকায় শটগান হাতে সাজ্জাদ হোসেনসহ আরও দুজন গুলি করতে করতে একটি নির্মাণাধীন ভবনে প্রবেশ করেন। এরপর ওই ভবন মালিকের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

এর আগে গত বছরের ২৯ আগস্ট নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন কুয়াইশ সড়কে প্রকাশ্যে গুলি করে মাসুদ কায়সার (৩২) ও মোহাম্মদ আনিস (৩৮) নামের দুজনকে হত্যা করা হয়। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসা ও রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে দুপক্ষের দ্বন্দ্বের জেরেই এ খুন হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ডাবল মার্ডারের ঘটনার দুই মামলায় সাজ্জাদ ও তার সহযোগীদের আসামি করা হয়। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে নগরের চান্দগাঁও থানার অদূরপাড়া জাগরণী সংঘ ক্লাবসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে মাইক্রোবাস থেকে নেমেই স্থানীয় ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন তাহসীনকে (২৭) গুলি করে হত্যা করে সাজ্জাদ বাহিনী।