তালতলীতে ব্রিজ ভেঙে খালে, ভোগান্তিতে দুই পাড়ের মানুষ

বরগুনার তালতলী সদরের মাছ বাজার-খোট্রার চর সড়কে থাকা ব্রিজটি ভেঙে খালে পড়ে গেছে। ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় দুই পাড়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) ভোর রাতে উপজেলা সদরের মাছ বাজার-খোট্রার চরের ব্রিজটি হঠাৎ খালে ভেঙে পড়ে। তবে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

জানা যায়, উপজেলার খোট্রার চর-মাছ বাজার এলাকায় খালের ওপর ২০০০ সালের দিকে একটি ব্রিজ নির্মাণ করে এলজিইডি। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরে সেতুটির কয়েকটি স্থান দেবে যায়। এরপর ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি আর সংস্কার করা হয়নি। ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ পারাপার হতেন। হঠাৎ শুক্রবার ভোর রাতে খালে জোয়ারের পানির তীব্র স্রোতে ধসে পড়ে। এতে কয়েকটি গ্রাম ও পর্যটন স্থানের প্রায় ১০ হাজার মানুষ বিপদে পড়ে যায়। এ এলাকার মধ্যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি বাজার, দুইটি এতিমখান,দুইটি মাদ্রাসা ও একটি পর্যটনস্থানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বর্তমানে ছোট একটি ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে মানুষ। এই ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজটি সম্পূর্ণ ধসে খালের পানিতে পড়ে আছে। ব্রিজটির দুই পাড়ে স্কুল শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা হাটবাজারে যাওয়ার জন্য পারাপারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। পারাপারের জন্য ঝুঁকি নিয়েই ডিঙি নৌকায় খাল পার হচ্ছেন। দুই পাড়ের ১০ হাজার মানুষের যাতায়াতের জন্য এই ব্রিজটিই ছিল একমাত্র মাধ্যম।

মোশারেফ, আমির হোসেন ও আল আমিনসহ একাধিক স্থানীয়রা বলেন, ব্রিজটি আমাদের বাসার পাশেই। ভোর রাতের দিকে হঠাৎ বিকট শব্দ পাই। কাছে গিয়ে দেখি ব্রিজটি ভেঙে খালে পড়ে আছে। এই ব্রিজটি প্রায় ১৬-১৭ বছরেও বেশি সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে আছে। স্থানীয়রা সংস্কার করে র্দীঘ দিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেছে। পরে একাধিক বার নতুন ব্রিজ নির্মাণের আবেদন করা হলেও কোনো উদ্যোগ নেয়নি স্থানীয় প্রকৌশলী বিভাগ। এখন দ্রুত নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণ করা দরকার।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে সালমা বলেন, আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিকল্পভাবে চলাচলের জন্য আপতত একটি কাঠের ব্রিজ তৈরি করে দেওয়া হবে। কোন দপ্তর ব্রিজটি নির্মাণ করেছে সেটা জেনে তাদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তীতে নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রতিবেদন পাঠানো হবে।