জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট মাঠের বেড়া ভাঙচুর ও খেলা বন্ধের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনও ও থানার ওসি ঘটনাস্থলে পরিদর্শনের পর ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিপুল কুমারকে আহ্বায়ক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ওসি, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা ও ছাত্রদের মধ্য মাহফুজ আহমেদকে সদস্য করা হয়।
শুক্রবার বেলা ১১টায় তিলকপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দেখা গেছে, ইউএনও এবং ওসিসহ সেনাবাহিনীর একটি দল পরিদর্শনে এসেছেন। এসময় সেখানে খেলা বন্ধের প্রতিবাদ ও মাঠ ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
তাদের দাবি, সামান্য ভুল বোঝাবুঝির কারণে গত মঙ্গলবার ওই ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। তবে আগামীতে নারী ফুটবল খেলতে আর কোনো বাধা দেবেন না।
এদিকে তিলকপুরের নারী ফুটবল খেলার মাঠে ভাঙচুরের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
এরপরই গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) আফরোজা আকতার চৌধুরী ও পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুরুল আলম, থানার পরিদর্শক (ওসি) আনিছুর রহমান ঘটনাস্থলে খেলার মাঠ পরিদর্শন করেন। তারা স্থানীয় বাসিন্দা, আয়োজক কমিটি, বিএনপি নেতা ও মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘টি স্টার’ নামে একটি ক্লাবের উদ্যোগে তিলকপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে প্রায় দেড় মাস আগে থেকে আন্তঃজেলা ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। ওই ক্লাবের সভাপতি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সামিউল হাসান ইমন।
টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠে পার্বতীপুর ও জয়পুরহাট ফুটবল দল। ফাইনাল ম্যাচের আগে আয়োজক কমিটি ওই মাঠে জয়পুরহাট ও রংপুর নারী ফুটবল দলের প্রীতি ম্যাচের ঘোষণা দিয়ে এলাকায় প্রচারণা চালায়। তখন থেকেই স্থানীয় আলেম সমাজ বিষয়টি নিয়ে বিরোধিতা করে। একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার বিকেলে একদল মুসল্লি ও মাদ্রাসার ছাত্র হামলা চালিয়ে খেলার মাঠে টিনের বেড়া ভাঙচুর করেন। ওই ঘটনার পর আয়োজকরা গত বুধবার বিকালের প্রীতি নারী ফুটবল ম্যাচ বাতিল করেন।
ভাঙচুরকারীদের কয়েকজন বলেন, নারী ফুটবল খেলা নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনায় আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। সামান্য ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমনটি হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন কোনো কাজ করবো না।
দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে তারা বলেন, আমরা নারীদের খেলার বিষয়ে নাক গলাবো না। ভবিষ্যতে আর কখনো এ ধরনের কাজ হবে না।
তিলকপুর পুরাতন বাজার জামে মসজিদের খতিব আব্দুস সামাদ বলেন, খেলার বিরুদ্ধে আমাদের কোনো পদক্ষেপ ছিলো না। তবে সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবোঝির কারণে যে অপ্রীতিকর ঘটনা হয়েছে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। খেলা চললে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
আয়োজক টি স্টার ক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সামিউল হাসান ইমন বলেন, নারী ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝির ঘটনাটি মীমাংসা করেছি।
আক্কেলপুর উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুরুল আলম বলেন, আমরা সমাধানের পথে চলে এসেছি। এখানে খেলা পরিচালনার জন্য কোনো বাধা নেই। শিগগিরই খেলা পরিচালনা করতে পারবো।
আক্কেলপুর থানার ওসি আনিছুর রহমান বলেন, তিলকপুর মাঠে নারী ফুটবল খেলাকে নিয়ে স্থানীয় দ্বন্দ্বের কারণে ভুল বোঝাবোঝি নিয়ে খেলাটি নিয়ে এই ঘটনাটি ঘটেছিল। সেটির প্রায় সমাধান হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিপুল কুমার বলেন, তদন্ত চলছে আরও অধিকতর তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
এর আগে তিলকপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার বিকেলে ওই মাঠের টিনের বেড়া ভাঙচুরের ঘটনার খেলা বন্ধ রাখেন আয়োজকরা।