লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে জয় না পেলে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম পর্ব থেকে ছিটকেই যেতে হতো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের টানা চার আসরের চ্যাম্পিয়ন ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিকে। শেষ ম্যাচে সেই জয়ে অন্তত প্লে-অফ পর্বে ওঠার একটি সুযোগ নিশ্চিত হয় পেপ গার্দিওলার ক্লাবটির। আর এর পরেই ‘পড়বি তো পড় মালির ঘাড়েই’- দশা এখন সিটিজেনদের। শেষ ষোলোয় ওঠার প্লে-অফ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ আসরটির সবচেয়ে সেরা দল ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের নিয়নে অনুষ্ঠিত ড্রয়ে নির্ধারিত হয় এ দুই পরাশক্তির মুখোমুখি হওয়া। অর্থাৎ ইউরোপের সেরা দুটি ক্লাবের যেকোনো একটির সফর এবার চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর আগেই কাটা পড়তে যাচ্ছে। এ নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে টানা চার মৌসুম নিজেদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এ দুই ক্লাব।
নতুন চেহারার চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম পর্বের আট ম্যাচ শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা সেরা আট দল সরাসরি জায়গা করে নেয় শেষ ষোলোয়। এ তালিকায় থাকা দলগুলো হলো লিভারপুল, বার্সেলোনা, আর্সেনাল, ইন্তার মিলান, আতলেতিকো মাদ্রিদ, বায়ার লেভারকুসেন, লিল ও অ্যাস্টন ভিলা। বাকি থাকা আটটি জায়গার জন্য এই দুই লেগের প্লে-অফে লড়বে ৯ থেকে ২৪তম অবস্থানে থাকা বাকি ষোলটি দল। আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি হবে প্লে-অফের প্রথম লেগ। ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি হবে দ্বিতীয় লেগ। পয়েন্ট তালিকার অবস্থান অনুযায়ী আগে থেকেই জানা ছিল একটি দলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হবে কোন দুটি দল। ১১তম অবস্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের তালিকায় ছিল ২১তম সেল্টিক বা ২২তম ম্যানসিটির নাম। শেষ পর্যন্ত ঘুরে ফিরে ম্যানসিটিকেই শেষ ষোলোর বাধা হিসেবে সামনে পেয়েছে রিয়াল। মৌসুমে ২২তম হয়ে প্রথম পর্ব শেষ করার পর বিরক্তি ঝেরেছিলেন সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা। এবার রিয়ালকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়ার পর পেপ বলেন, ‘ব্যাপারটা ডার্বির মতো হয়ে যাচ্ছে, টানা চার বছর ধরে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হচ্ছি। এখন সমস্যা হচ্ছে মাঝে নিউক্যাসলের বিপক্ষেও খেলা আছে।’
সেল্টিকের সঙ্গে খেলা পড়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগের দ্বিতীয় সেরা দল বায়ার্ন মিউনিখের। আগের নিয়মে একই দেশের দুটি দল নকআউট পর্বে নিজেদের মুখোমুখি হতে পারত না। এবার বদলেছে সেই নিয়ম। এর ফলে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলতে এসে নকআউট পর্বে ওঠা ফরাসি ক্লাব ব্রেস্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে নিজের দেশের প্যারিস সেন্ট জার্মেইকে (পিএসজি)। একে ওপরের খোলনলচে ভালো করে চেনা থাকলেও প্লে-অফে ধারে-ভারে এগোনো পিএসজিকে পাওয়াটা ব্রেস্তকে মানসিকভাবে কিছুটা হলেও দুর্বল করে দেবে।