আমার সম্মান ও ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়েছে, ভিডিও বার্তায় বিজয়

বিপিএলের চলমান আসরের কয়েকটি ম্যাচেই ওয়াইড বলে ৫ রান দেওয়া, টানা তিনটা ওয়াইড দেওয়ার মতো অস্বাভাবিক অনেক ঘটনা ঘটেছে। এতে স্পট ফিক্সিং নিয়ে মানুষের মনে অনেক প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। সবার মনে যখন সন্দেহের অবকাশ হয়েছে তখন ‘ফিক্সিং নিয়ে হাঁড়ির খবর ফাঁস! আকু'র নজরদারিতে ১০ ক্রিকেটার।’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে দেশের বেসরকারি একটি টেলিভিশন সংবাদমাধ্যম। 

প্রতিবেদনে তারা জানায়, ফিক্সিং সন্দেহে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দুর্নীতি দমন ইউনিট (এসিইউ) অন্তত ১০ জন ক্রিকেটার এবং চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নিয়ে তদন্ত করছে। যেখানে ক্রিকেটারদের নামও প্রকাশ করেছে তারা। থিসারা পেরেরা, মোহাম্মদ মিঠুন, আরিফুল হকদের মতো ক্রিকেটারের পাশাপাশি এনামুল হক বিজয়ের নামও ছিল। অভিযোগ থাকায় ডানহাতি ওপেনারের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে! এমন খবর প্রকাশ করে বেশি কয়েকটি গণমাধ্যম। 

যদিও বিসিবি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিশ্চিত করে তারা এমন কিছু জানে না। নিজের নামে এমন খবর প্রকাশ করায় ওই গণমাধ্যমদের উকিল নোটিশ পাঠাচ্ছেন বিজয়। ফেসবুকে পেজে একটি ভিডিও আপলোড করে সেটি নিশ্চিত করেছেন তিনি।

বিজয়ের প্রতিক্রিয়া: উকিল নোটিশ পাঠানোর ঘোষণা

এনামুল হক বিজয় অভিযোগ করেছেন যে, এই ধরনের মিথ্যা সংবাদ তার সম্মান ও ক্যারিয়ারকে ক্ষুণ্ণ করছে। তিনি ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করে জানান, তিনি উকিল নোটিশ পাঠাচ্ছেন ওই গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে, যারা তার নামে ভিত্তিহীন খবর প্রচার করেছে। তিনি বলেন, 'এই ধরনের সংবাদ একজন খেলোয়াড়ের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। আমার সম্মান ও ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়েছে।'

বিজয় আরও বলেন, 'এটি শুধু আমার জন্য নয়, ভবিষ্যতে অন্য কোনো খেলোয়াড়ের জন্যও হতে পারে। এই ধরনের ভিত্তিহীন সংবাদ প্রেরণ করা একদমই অশোভন। যারা এমন সংবাদ প্রকাশ করেছেন, তারা দেশের ক্রিকেটের ভালো চান না।' তিনি সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ করেছেন, 'একবার ভাবুন, আপনার পরিবারের উপর দিয়ে কী যেতে পারে যদি এই ধরনের মিথ্যা সংবাদ প্রকাশিত হয়।'

বিজয়ের কৃতজ্ঞতা

এনামুল হক বিজয় তার সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, 'আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই, যারা আমাকে বিশ্বাস করেছে এবং ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'বিপজ্জনক ও মিথ্যা সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে আমাকে সাহসী হয়ে দাঁড়াতে হবে। আমি এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করব এবং সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে।'

এখন দেখার বিষয়, এই বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবি কী পদক্ষেপ নেয় এবং এই পরিস্থিতির কী ফলাফল হয়।