খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাসহ ১৩ জনকে আজীবন বহিষ্কার ও তাদের সার্টিফিকেট (সনদপত্র) বাতিল করা হয়েছে।
গত ২৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ বিভাগের পরিচালক ও শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ।
কুয়েট সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কুয়েটের ড. এম এ রশিদ হলের ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই) বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুর রহমানকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। ওই ঘটনা তদন্তের জন্য গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। গত ২৭ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হলে অভিযুক্তদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রায়হান আহমেদকে আজীবন বহিষ্কার ও সনদ বাতিল, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের কুয়েট শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানকে ছাত্রত্ব বাতিলসহ আজীবন বহিষ্কার, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাদ আহমেদকে আজীবন বহিষ্কার ও বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ বাতিল, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাজেদুল কবিরকে আজীবন বহিষ্কার ও বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ বাতিল, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আদনান রাফিকে আজীবন বহিষ্কার ও বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ বাতিল, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রিজুয়ান ইসলাম রিজভীকে ছাত্রত্ব বাতিলসহ আজীবন বহিষ্কার, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ফুয়াদুজ্জামান ফাহিমকে ছাত্রত্ব বাতিলসহ আজীবন বহিষ্কার, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসান মিঠুকে ছাত্রত্ব বাতিলসহ আজীবন বহিষ্কার, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাফাত মোর্শেদকে ছাত্রত্ব বাতিলসহ আজীবন বহিস্কার, বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট (বিইসিএম) বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ফখরুল ইসলামকে ছাত্রত্ব বাতিলসহ চিরতরে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এছাড়া লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থ মোস্তাক আহমেদকে ৫ বছরের জন্য কোনো প্রকার সনদ না দেওয়া এবং চিরতরের জন্য প্রশংসাপত্র দেওয়া হবে না, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী শুভেন্দু দাসকে ৩ বছরের জন্য কোনো প্রকার সনদ না দেওয়া এবং চিরতরের জন্য প্রশংসাপত্র দেওয়া হবে না, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ফারিয়ার জামিল নিহালকে ৩ বছরের জন্য কোনো প্রকার সনদ প্রদান এবং চিরতরের জন্য প্রশংসাপত্র প্রদান করা হবে না।
কুয়েটের ছাত্র কল্যাণ বিভাগের পরিচালক ও ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ বলেন, শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তদন্ত কমিটির সুপারিশ ও অন্যান্য বিষয়গুলো বিস্তারিত পর্যালোচনা শেষে শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী সর্বসম্মতিক্রমে উক্ত ছাত্রদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।