জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন দেশের অনেক কিছুরই পরিবর্তন হয়েছে। সরকার পরিবর্তন থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। তেমনি শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার নামে থাকা অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
তবে বুধবার রাতে শেখ হাসিনা ভাষণ দেওয়ার ঘোষণার পর শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। ভাষণের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ‘বুলডোজার মিছিলের’ ডাক দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
তাদের ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার রাত ৮টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বিক্ষোভকারীরা। এসময় তারা ভাঙচুর চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে তারা শেখ হাসিনার ধানমন্ডি ৫ নম্বরের বাসভবন সুধা সদনেও আগুন দেন তারা।
ধানমন্ডির পরপরই দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার নামাঙ্কিত স্থাপনার নাম পরিবর্তন ও ম্যুরাল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল’ করা হয়েছে। এ ছাড়াও বিজয় ৭১ ও অমর একুশে হলের নামফলক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে শেখ হাসিনার নাম।
শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার নামে থাকা হলগুলোর নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণ করা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ম্যুরাল অপসারণ করা হয়েছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল গুঁড়িয়ে ফেলা হয়।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, নামফলক ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই হলের নামও পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘বিজয়-২৪ হল’ এবং শেখ হাসিনা হলের নাম পরিবর্তন করে নাম রাখা হয়েছে ‘সুনীতি-শান্তি হল’।