হাইতিতে শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতা বেড়েছে ১০ গুণ

হাইতিতে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা গত দুবছরে ১০ গুণ বেড়ে গেছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এ তথ্য। গত শুক্রবার এক প্রতিবেদনে ইউনিসেফ জানিয়েছে, রাজধানীর বেশিরভাগই দখল করে রাখা গ্যাংগুলো (অপরাধী চক্র) নিজেদের দলে শিশু নিয়োগ বাড়ানোয় তাদের ওপর বেশিমাত্রায় এই সহিংসতা হচ্ছে।

হাইতিতে কয়েক বছর ধরেই সহিংস অপরাধী চক্রের দাপট বেড়েছে। তারা মানুষের সঙ্গে অত্যন্ত নির্মম আচরণ করে আসছে। ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এলডার বলেন, শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা ২০২৩ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত এক হাজার শতাংশ (১০ গুণ) বেড়ে গেছে। ইউনিসেফের হিসাব মতে, হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের ৮৫ শতাংশই এখন অপরাধী চক্রের কবলে। ১০ লাখের বেশি শিশু সেখানে অবিরাম সহিংসতার হুমকির মুখে বাস করছে।

ইউনিসেফের মুখপাত্র এলডার হাইতিতে শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতার একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি জানান, ১৬ বছরের এক কিশোরী বাড়ি থেকে বেরিয়ে দোকানে গেলে সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তাকে মারধর করে, মাদক খাইয়ে বারবার ধর্ষণ করা হয়। মেয়েটিকে এক মাস আটকে রাখা হয়েছিল। মেয়েটির পরিবারের মুক্তিপণ দেওয়ার সামর্থ্য নেই জানতে পারার পর তাকে ছেড়ে দেয় গ্যাং সদস্যরা।

অপহরণের শিকার হওয়া ওই কিশোরীকে এখন জাতিসংঘের আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। সেখানে অন্য মেয়েদের সঙ্গে তারও যত্ন নেওয়া হচ্ছে বলে জানান এলডার।

হাইতিতে বর্তমানে কোনো প্রেসিডেন্ট কিংবা পার্লামেন্ট নেই। সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়েছে আট বছর আগে। ২০২১ সালের জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট পদটি ফাঁকা হয়ে যায়। দেশের ক্ষমতাকেন্দ্রে এমন শূন্যতাকে পুঁজি করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো হাইতির বিভিন্ন জায়গায় তাদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত করছে। আইনের প্রয়োগ না থাকায় হাইতির বিভিন্ন জায়গায় কার্যত অনাচার চলছে।

অপরাধী চক্রের কবলে থাকার কারণে হাইতির রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রায় পুরোপুরিই ভেঙে পড়েছে। দেশটিতে শুধু গত বছরেই অপরাধী চক্রগুলোর সহিংসতায় ৫ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।