এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় পর্বের জন্য ৩৮ সদস্যের প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করেছেন জাতীয় দলের স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। যে তালিকায় স্বাভাবিকভাবে আছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ তারকা হামজা চৌধুরী। তবে তালিকার শেষ নামটি চমক জাগিয়েছে। কোচ জায়গা দিয়েছেন ফাহামেদুল ইসলাম নামে এক তরুণকে। ইতালি প্রবাসী ১৮ বছরের মিডিফিল্ডারকে ট্রায়ালে পরখ করতে চান কাবরেরা। ইতালির চতুর্থ স্তরের দল ওলবিয়া সেলসিওর হয়ে খেলা ফাহামেদুলের জন্ম বাংলাদেশের ফেনীতে। তবে বাবা-মায়ের সঙ্গে ইতালিতে পাড়ি দেন খুব কম বয়সে। ভারতের বিপক্ষে ২৫ মার্চ শিলংয়ে বাছাইয়ের প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। তার আগে দেশে এবং সৌদি আরবে দুই ধাপে দলকে প্রস্তুত করার কথা কাবরেরার। মার্চের প্রথম সপ্তাহে সৌদিতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে কাবরেরা সঙ্গে করে নিয়ে যাবেন ২৮ ফুটবলার।
গত বছর ১৬ নভেম্বর বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় প্রীতি ম্যাচে মালদ্বীপকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের সেই সিরিজে কাবরেরা রেখেছিলেন ২৬ ফুটবলার। সেই তালিকা থেকে এবার বাদ পড়েছেন ফর্টিস এফসির মিডফিল্ডার দিদারুল আলম এবং ঢাকা আবাহনীর ফরোয়ার্ড মিরাজুল ইসলাম। পুরনো ২৪ জনকেই রাখা হয়েছে। এর সঙ্গে ডাকা হয়েছে ১৪ ফুটবলার। যাদের মধ্যে নিয়মিত অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া, লেস্টার সিটি থেকে সদ্য শেফিল্ড ইউনাইটেডে ধারে খেলতে যাওয়া মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী এবং ফিনল্যান্ডে সামরিক ট্রেনিং শেষে ফেরা ডিফেন্ডার তারিক কাজী অন্যতম।
হামজার যে অচিরেই অভিষেক হতে যাচ্ছে লাল-সবুজ জার্সিতে তা আগে থেকেই জানা। তার সংযুক্তিতে দলের শক্তি ও মনোবল অনেকটাই বাড়বে বিশ্বাস সবার। যদিও এখনো নিশ্চিত হয়নি তিনি কবে নাগাদ দলের সঙ্গে যুক্ত হবেন। তবে একেবারের ভাবনার বাইরে থেকে কোচ বেছে নিয়েছেন ফাহামেদুল ইসলামকে। ১৮ বছরের এই তরুণের মধ্যে সম্ভাবনা দেখতে পেয়েই তাকে রেখেছেন স্কোয়াডে। যদিও দলের সঙ্গে তিনি কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন এবং কতটা কার্যকর হবেন, সেটা বলে দেবে সময়।
৩৮ জনের তালিকায় গোলকিপার রাখা হয়েছে পাঁচজন। আগের স্কোয়াডে থাকা মিতুল মারমা, আনিসুর রহমান জিকো, সুজন হোসেন ও মেহেদী হাসান শ্রাবণের সঙ্গে রাখা হয়েছে মোহামেডানের দ্বিতীয় গোলকিপার সাকিব আল হাসানকে। ডিফেন্ডার ১৩ জন। তারিক কাজীর ফেরার পাশাপাশি রক্ষণের শক্তি বাড়াতে ডাকা হয়েছে দুই পুরনো মুখ ইয়াসিন খান ও সুশান্ত ত্রিপুরাকে। ইয়াসিন আবাহনীর হয়ে এবং সুশান্ত ব্রাদার্সের হয়ে আলো ছড়াচ্ছেন লিগে। এর বাইরে মোহামেডানের তরুণ ডিফেন্ডার জাহিদ হাসান শান্তকে ডেকেছেন কোচ। আটজন মিডফিল্ডারের মধ্যে জামাল ছাড়াও চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন বসুন্ধরা কিংসের মিডফিল্ডার সোহেল রানা জুনিয়র। ৯ জন ফরোয়ার্ডের মধ্যে নতুন করে ডাক পেয়েছেন বসুন্ধরা কিংসের রাব্বি হোসেন রাহুল এবং রফিকুল ইসলাম। ভালো পারফরম্যান্স করে নজর কেড়ে ফের জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন আবাহনীর অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ ইব্রাহিম। লিগে স্থানীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ সাত গোল করা পুলিশ এফসির স্ট্রাইকার আল আমিনের জায়গা পাওয়াটা অনুমিতই ছিল। তবে রহমতগঞ্জের হয়ে নিজেকে নতুন করে চেনানো নাবিব নেওয়াজ জীবনকে ডাকেননি কোচ।
বাংলাদেশ অধ্যায় শুরুর প্রথম বছরে একটা ভুল বোঝাবুঝির কারণে জীবনকে বাদ দিয়েছিলেন কাবরেরা। এরপর থেকেই ব্রাত্য ছিলেন তিনি। চলতি মৌসুমে রহমতগঞ্জের হয়ে লিগের ৯ ম্যাচে করেছেন পাঁচ গোল। এছাড়া ফেডারেশন কাপে ফকিরেরপুলের বিপক্ষে ছিল হ্যাটট্রিক। অর্ধেক মৌসুমেই আট গোল করে ফেলেছেন। তারপরও তাকে জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ দেননি কাবরেরা। অথচ গেল কয়েক মাস খেলার মধ্যে না থাকা জামাল ভুঁইয়াকে ঠিকই প্রাথমিক স্কোয়াডে ডেকেছেন কোচ। জীবনকে না রাখা এবং জামালের সংযুক্তিতে কাবরেরা স্কোয়াড নিয়ে নিজেই প্রশ্নের জায়গা রেখে দিয়েছেন। জামাল সর্বশেষ প্রীতি সিরিজে খেলেননি ডেনমার্কে সন্তানসম্ভবা স্ত্রী পাশে থাকার জন্য ছুটি নেওয়ায়। আবাহনীর সঙ্গে জটিলতার কারণে চলতি ঘরোয়া মৌসুমে মাঠেও নামা হয়নি তার। মধ্যবর্তী দলবদলে অবশ্য ব্রাদার্সে নাম লিখিয়েছেন তিনি।
বাফুফে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দিয়েছে এই প্রাথমিক তালিকা। এর সঙ্গে ২ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন কাবরেরা। যেখানে জামালকে নেওয়ার এবং জীবনকে না ডাকার ব্যাখ্যা দেননি। কাবরেরা বলেন, ‘আসন্ন এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য প্রাথমিক তালিকায় ৩৮ জনকে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ জন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে নিয়মিত খেলে। এই তালিকার অনেকেই গেল দুই বছর জাতীয় দলে নিয়মিত ছিলেন। এর বাইরে কিছু খেলোয়াড়ের সঙ্গে এখন আমার সরাসরি দেখা না হলেও লিগ এবং ফেডারেশন কাপের পারফরম্যান্সের কারণে ডাক পেয়েছেন।’
‘ফাহামেদুল ইতালির সিরি-ডিতে খেলছে। সম্ভাবনাময় তরুণ, লেফটব্যাক ও লেফট উইং পজিশনে খেলে। বয়স ১৮ হলেও ইউরোপের একটি ক্লাবের সিনিয়র দলে খেলছে। আশা করছি তার সংযুক্তি দলের শক্তি বাড়াবে। আর অবশ্যই হামজা চৌধুরী শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে শেষ দুটি ম্যাচেই খেলেছে। ওর দলের সঙ্গে যোগ দেওয়াটা বড় ব্যাপার। এই ৩৮ জনের মধ্য থেকে সম্ভবত আমরা ২৮ জনের একটা তালিকা করব, যাদের নিয়ে আমরা ঢাকা ও সৌদি আরবে ট্রেনিং করব।’
ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে দেশে কাবরেরা শুরু করেন ক্যাম্প। এরপর মার্চের প্রথম সপ্তাহে দলের সৌদি আরবে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করতে যাওয়ার কথা।
৩৮ জনের প্রাথমিক স্কোয়াড
গোলকিপার : মিতুল মারমা, সুজন হোসেন, আনিসুর রহমান জিকো, মেহেদী হাসান শ্রাবণ, সাকিব আল হাসান। ডিফেন্ডার : মুরাদ হাসান, মেহেদী হাসান, শাকিল আহাদ তপু, রহমত মিয়া, শাকিল হোসেন, ইশা ফয়সাল, তাজ উদ্দিন, তারিক কাজী, তপু বর্মণ, সাদ উদ্দিন, সুশান্ত ত্রিপুরা, ইয়াসিন খান, জাহিদ হাসান শান্ত। মিডফিল্ডার : মোহাম্মদ হৃদয়, পাপন সিং, সৈয়দ শাহ কাজেম কিরমানি, মোহাম্মদ সোহেল রানা, সোহেল রানা, চন্দন রায়, মজিবর রহমান জনি, শেখ মোরসালিন, জামাল ভুঁইয়া, হামজা চৌধুরী। ফরোয়ার্ড : ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, রাকিব হোসেন, রাব্বি হোসেন রাহুল, রফিকুল ইসলাম, শাহরিয়ার ইমন, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, আরিফ হোসেন, আল আমিন, পিয়াস আহমেদ নোভা, ফাহামেদুল ইসলাম।