কেন পড়বেন ফুড টেকনোলজি

বিশ্বে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা। খাদ্যের নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হলে ফুড টেকনোলজিস্টের প্রয়োজন। ফুড টেকনোলজিস্ট পেশায় সহজেই ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। দেশে ফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রির সংখ্যা বাড়ছে। তাই ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে পড়াশুনা করে যে কেউ সফল ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন।

পড়ার যোগ্যতা

ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিষয়ে অনার্স ডিগ্রি নিতে হলে শিক্ষার্থীকে সাধারণত বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করার পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ে পড়াশোনার জন্য আবেদন করতে হয়। গ্র্যাজুয়েট, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট বা পিএইচডি ডিগ্রির জন্য একাধিক প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাওয়া যায়। যেসব বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করলে এই ক্ষেত্রে কাজ করা যায়, তা হলো ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন, হোম সায়েন্স, ফুড টেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি ইত্যাদি। তা ছাড়াও, ফুড টেকনোলজি নিয়ে বি-টেক, বিএসসি, এম-টেক, এমএসসি, পিএইচডি ইত্যাদি ডিগ্রি অর্জন করা সম্ভব।

কোথায় পড়বেন

দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিষয়ে পড়ালেখার সুযোগ রয়েছে। দেশে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ে চার বছর মেয়াদি অনাস ডিগ্রি দেওয়া হয়। এছাড়া কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পড়তে পারবেন।

যা জানতে হয়

পেশাদার ফুড টেকনোলজিস্ট, টেকনিশিয়ান বা ইঞ্জিনিয়ারদের প্রধানত ম্যানুফ্যাকচারিং, প্রসেসিং, প্রিজারভেশন, প্যাকেজিং এবং ক্যানিংয়ের কাজ করতে হয়। কিছু বিষয়ে তাদের কাজ করতে হয়, সেগুলো হলো সঠিক কোয়ালিটির কাঁচামাল সরবরাহ হচ্ছে কি না, ফুড প্রসেসিংয়ের প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে কাজ করছে কি না সে বিষয়ে লক্ষ রাখা, ফুড প্রসেসিং সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি বিষয়ে নজর রাখা, খাবারে যাতে কোনো রকম ভেজাল বা অবাঞ্ছিত বস্তু মিশে যেতে না পারে তার লক্ষ রাখা, খাবারের পুষ্টিগুণ সঠিকভাবে বজায় থাকছে কি না খেয়াল রাখা। এ ছাড়াও ফুড প্রসেসিংয়ে আরও যে ধরনের পদে কাজ করতে হয়, তা হলো

অর্গানিক কেমিস্ট : কাঁচামাল থেকে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের রাসায়নিক প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধান করা।

বায়োকেমিস্ট : খাবারের ফ্লেভার, টেক্সচার, স্টোরেজ এবং কোয়ালিটি বিষয়ে নজর রাখা।

অ্যানালিটিক্যাল কেমিস্ট্রি : ফুড প্রডাক্টের কোয়ালিটি বিষয়ে খেয়াল রাখা।

হোম ইকোনমিস্ট : এই পদে যিনি কাজ করবেন তাকে নিউট্রিশন এবং ডায়েটেটিক্স-এর বিষয়েও জানতে হয় এবং খাবারের পুষ্টি এবং উপকারিতার দিকটাও দেখতে হয়।

ইঞ্জিনিয়ার : ফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রির প্ল্যানিং, ডিজাইনিং, ইমপ্রুভিং, মেইনটেন্যান্স এবং প্রসেসিং সিস্টেম তদারকির কাজ করার জন্য কেমিক্যাল, মেকানিক্যাল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল, ইলেক্ট্রিক্যাল, সিভিল এবং এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারের প্রয়োজন হয়।

রিসার্চ সায়েন্টিস্ট : খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অর্থাৎ খাবারের উৎপাদন, গুণমান, স্বাদ-বৈশিষ্ট্য, পুষ্টিগত গুরুত্ব ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণা এবং উন্নয়নের কাজ করেন গবেষক এবং বিজ্ঞানীরা।

ম্যানেজার এবং অ্যাকাউন্ট্যান্ট : ফুড টেকনোলজিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে হলে খাদ্যের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণকরণ, আরও জ্ঞান অর্জন করতে হয় খাদ্যের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে, পুষ্টির অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার, খাদ্য রপ্তানি ও আমদানি সম্পর্কিত আইন, খাদ্যের জৈব রসায়ন, প্রাণ রসায়ন, খাদ্যের অণুজীব বিদ্যা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ইত্যাদি।

কাজের ক্ষেত্র

 ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে ডিগ্রি অর্জনের পর দেশের বড় বড় ফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও আছে বিভিন্ন এনজিও যেমন এফএও, এফডিএ, ডাব্লিউএইচও, ইউএনডিপি ইত্যাদি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করার সুযোগ। দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও রয়েছে এ পেশায় চাকরির সুযোগ।

আয়রোজগার

ফুড টেকনোলজিস্ট হিসেবে পেশায় নতুন অবস্থায় শুরুতেই ২৫ হাজার বা তারও বেশি টাকা বেতন পেতে পারেন। তবে প্রতিষ্ঠান ও কাজ ভেদে বেতন কমবেশি হবে। পর্যায়ক্রমে চাকরিরত অবস্থায় বেতনের পরিমাণ বাড়তে থাকবে। তাছাড়া বিদেশেও এ পেশায় রয়েছে আকর্ষণীয় বেতনভাতা।