প্রস্তুতির ঘাটতি তবুও শিরোপার স্বপ্ন

গতকাল সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয় দল যখন শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন করছে, তখন লাহোরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ওয়ানডে খেলছে নিউজিল্যান্ড। আসরের আরেক দল পাকিস্তান। আগের রাতেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলেছে ভারত। আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের তিন প্রতিপক্ষই প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়ানডে খেলে, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। এমনকি অস্ট্রেলিয়াও দুটো ওয়ানডে খেলবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। আট দলের আসরের দুটো দল আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে নামার আগে কোনো ওয়ানডেই খেলবে না; একটি বাংলাদেশ, অন্যটি আফগানিস্তান।

আফগান ক্রিকেটারদের একটা বড় অংশই বিশ্ব জুড়ে নানা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলে বেড়িয়েছেন গত পাঁচ-ছয় সপ্তাহ ধরে। রশিদ খান তো এসএ ২০-এর ট্রফিই জিতলেন এমআই কেপটাউনের হয়ে। আইএলটি ২০-তেও ছিলেন অনেকে। বাংলাদেশেও কিছুদিন আগে শেষ হয়েছে বিপিএল, তবে মানে সেই সব আসরের সঙ্গে বিপিএলের ব্যাপক ফারাক। এখানে শুভম রঞ্জন, মিগুয়েল কামিন্স, ফরমানউল্লাহ শাফিদের মতো অখ্যাত সব ক্রিকেটারের মেলা। মানহীন ক্রিকেটারের ভাগাড়ে পরিণত হওয়া বিপিএলে সাত ফ্র্যাঞ্চাইজির ভেতর দুটো ফ্র্যাঞ্চাইজি অংশ নিয়েছে নামকাওয়াস্তে, ম্যাচ জেতার চাইতে জুয়ার ওয়েবসাইটের অঙ্ক মেলাতেই যেন তাদের ছিল বেশি নজর! জাতীয় দলের অধিনায়ক তার ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের একাদশেই জায়গা পান না! এমন হযবরল কান্ডের বিপিএল খেলে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো মর্যাদার আসরের প্রস্তুতি কেমন হলো? এমন প্রশ্নই রাখা হয়েছিল কোচ ফিল সিমন্সের কাছে। এই ক্যারিবীয় কোচের জবাব, ‘আমি মানছি যে, এটি সেরা প্রস্তুতি নয়। তবে একটা জিনিস আমি বলব যে, তারা খেলার মধ্যে ছিল এবং সাদা বলের ক্রিকেটই খেলছিল। যার মানে দক্ষতার দিক থেকে তারা ধারালোই আছে। আমার মনে হয়, আগামী ছয়-সাত দিনে ওদের মানসিকতা ৫০ ওভারের ক্রিকেটের দিকে আনতে হবে। দক্ষতা ওদের আছে, ওদের পারফর্ম করতে দেখেছি আমরা। তাই এখন ৫০ ওভারের মানসিকতা আনাটাই মূল ব্যাপার।’ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২০ বলে ৪০ করাটা বড় সাফল্য, তবে ওয়ানডেতে অন্তত ওপরের দিকের ব্যাটসম্যানদের লম্বা ইনিংস খেলাটা জরুরি, পুরো ৫০ ওভার খেলে আসাটাও দরকার, ২০ ওভারের ক্রিকেটের মতো সবকিছু চটজলদি হয় না এই সংস্করণে। তাই ৫০ ওভারের ক্রিকেটে মন ফেরাতে কী করা হচ্ছে অনুশীলনে এমন প্রশ্নে সিমন্স বলেছেন, ‘হ্যাঁ, এটি (লম্বা ব্যাটিং-বোলিং সেশন) গুরুত্বপূর্ণ। যে কারণে সামনের কয়েক দিন আমাদের অনুশীলনের সেশন দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়েছে। যেখানে আমরা সকালে ব্যাটিং-বোলিং করব। পরে সন্ধ্যায় আলোর নিচেও একই। যাতে আমরা ৫০ ওভার ব্যাটিংয়ের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারি।’

বাংলাদেশ দলকে প্রথমে দুবাইতে খেলতে হবে ভারতের বিপক্ষে, এরপর রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। সিমন্স বললেন, ‘প্রাথমিক প্রস্তুতিটা দুবাইয়ের জন্য। আমার মতে, আমরা যদি মানসিক দিক থেকে উপযুক্ত স্থানে পৌঁছাতে পারি এবং দুবাইয়ের জন্য সঠিক কাজগুলো করতে পারি, তাহলে টুর্নামেন্টের শুরুটা ভালো করতে পারব। আর শুরুটা ভালো হলে...এরপর আমরা পাকিস্তানে যাব, সেখানে কন্ডিশন বাংলাদেশের মতোই।’

বিপিএলে নাজমুল হোসেন শান্তর পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার অভাব কতটা ভোগাতে পারে দলকে? সিমন্স বলছেন, ‘তাকে নিয়ে একটা ব্যাপার আপনাদের বলতে পারি, যে সময়টায় সে খেলেনি, এই পুরো সময় সে কঠোর পরিশ্রম করেছে। সে ম্যাচের আগেই জানত যে খেলছে না। কাজেই সে তখন চলে আসত (মাঠে) এবং নিজের কাজ করত। আমি বলব, দলের সবারই শক্তিশালী, খুবই শক্তিশালী মানসিকতার প্রয়োজন পড়বে। (বিপিএল শেষে) এখন ৫০ ওভারে লড়াইয়ের পালা এবং আপনি ঠিক বলেছেন, অধিনায়ক খুব বেশি ম্যাচ খেলেনি সাম্প্রতিক সময়ে। তবে প্রবল মানসিক শক্তির প্রয়োজন এখানে এবং আমার মনে হয়, তার তা আছে। তার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে মুখিয়ে থাকব আমি।’

অপর্যাপ্ত প্রস্তুতি, অধিনায়কের ম্যাচ খেলার ঘাটতি আর প্রতিপক্ষদের প্রবল প্রস্তুতি দেখেও সাহস করে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জেতার ব্যাপারে বিশ্বাসের কথাটা জানিয়ে গেছেন সিমন্স, ‘আমি বিশ্বাস না করলে তো এখানে আসতাম না।’

কোচের বিশ্বাস আছে, শিরোপা জিততে পারে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এই কথাটা নিজেরা কতটা বিশ্বাস করেন, প্রশ্ন আসলে সেটাই। সেই সঙ্গে প্রশ্ন আছে সামর্থ্য নিয়েও। বাতিল হয়ে যাওয়া ক্রিকেটারদের আসরে পরিণত হয়ে যাওয়া বিপিএলে যাদের ব্যাটে রান নেই বা ঝুলিতে উইকেট নেই, তারা কি পারবেন বিশ্বসেরাদের চোখে চোখ রেখে লড়তে!