সিটির ব্যাঙ্গাত্মক ব্যানারে রাগ হয়নি ভিনির

ম্যাচের আগে ব্যঙ্গ, শেষে রিয়াল মাদ্রিদের জয়—ইতিহাদে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে ম্যানচেস্টার সিটির তৈরি করা ট্রল তাদেরই বিপক্ষে গেল।

ম্যাচ শুরুর আগে সিটির সমর্থকরা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ব্যালন ডি’অর না জেতা নিয়ে মজা করে বিশাল ব্যানার তুলে ধরেন। তাতে ছিল সিটির মিডফিল্ডার রদ্রির হাতে ট্রফি আর পাশে লেখা— 'Stop Crying Your Heart Out', যা জনপ্রিয় ইংলিশ ব্যান্ড ওয়াসিসের গান।

কিন্তু এই ব্যানারই যেন ভিনিসিয়ুসকে আরও উদ্দীপ্ত করল। রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখালেন, দুটি গোলের সুযোগ তৈরি করলেন এবং রিয়ালকে ৩-২ ব্যবধানে দারুণ এক জয় এনে দিলেন।

ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ টিভি চ্যানেল মুভিস্টারকে ভিনিসিয়ুস বলেন, 'আমি ব্যানারটা দেখেছি। যখনই প্রতিপক্ষের সমর্থকরা আমাকে চটানোর চেষ্টা করে, আমি আরও বেশি ভালো খেলতে চাই। আজও সেটাই হয়েছে।'

সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা যদিও বলেছেন তিনি ব্যানারটি দেখেননি, তবে স্কাই স্পোর্টসের বিশ্লেষক জেমি ক্যারাঘার ব্যাপারটি ভালোভাবে নেননি।

তিনি বলেন, 'এটা একদম বাজে ব্যাপার। ম্যাচের আগে এমন কিছু করার মানে কী? ওরা (ভিনিসিয়ুস) রেগে গিয়ে যদি দারুণ খেলতে শুরু করে, তাহলে লাভ কী হলো?'

তিনি আরও যোগ করেন, 'রিয়াল মাদ্রিদ ব্যালন ডি’অর নিয়ে যে শিশুসুলভ আচরণ করেছে, সেটা ঠিক হয়নি। কিন্তু ম্যান সিটি তো বড় দল, তাদের উচিত ছিল আরও পরিপক্ব আচরণ করা।'

২০২৩ সালের ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জেতেন ম্যানচেস্টার সিটির রদ্রি। তবে অনেকেই মনে করেছিলেন, ভিনিসিয়ুসের এটি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি ছিল, কারণ তিনি লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিলেন।

কিন্তু ভোটের ফল আগেভাগে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে পুরো রিয়াল মাদ্রিদ দল ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

রিয়ালের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ ভোটিং প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, 'এখন এমন কিছু দেশের সাংবাদিক ভোট দেন, যাদের ভোটের মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। যদি উগান্ডা, নামিবিয়া, আলবেনিয়া, ফিনল্যান্ডের সাংবাদিকদের ভোট বাদ দেওয়া হতো, তাহলে ভিনিসিয়ুসই বিজয়ী হতেন।'

অন্যদিকে, রদ্রি রিয়ালের এই আচরণ মেনে নিতে পারেননি। তিনি বলেন, 'ফুটবলে জয়-পরাজয় থাকবেই। হার মানতে শিখতে হবে। এইভাবে অনুষ্ঠান এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হয়নি।'

আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ফিরতি লেগে রিয়ালের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মুখোমুখি হবে দুই দল। এখন সিটির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ—অন্তত এক গোলের ব্যবধানে জিততে হবে, নয়তো ছিটকে যেতে হবে।

রদ্রি ফিরলে কি সিটির চেহারা বদলাবে? নাকি রিয়াল মাদ্রিদ আবারও দেখাবে তাদের চ্যাম্পিয়ন মানসিকতা? উত্তর মিলবে বার্নাব্যুতে!