আধুনিক শপিং মলে এগোচ্ছে চাটগাঁ

আধুনিক শপিং মলে এগোচ্ছে বাণিজ্যিক রাজধানী চাটগাঁ। ঢাকার বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক কিংবা বর্তমানের আধুনিকতার ছোঁয়া-সংবলিত উত্তরা রূপায়ণ সিটিতে গড়ে ওঠা শপিং মলের মতো মল নেই চট্টগ্রামে। তবে তারপরও চট্টগ্রামে আধুনিক শপিং মলের সূচনা করেছিল সানমার ওশেন সিটি। ২০০২-০৩ সালের দিকে নির্মাণের পর ২০০৭ সালে পুরোদমে চালু হওয়া সানমার ওশেন সিটি ছিল নগরবাসীর ক্রেজ। ড্রপিং বে, ভবনের নিচ থেকে ওপর থেকে উন্মুক্ত, এস্কেলেটরসহ নকশাটি চট্টগ্রামে শপিং মলের ধারণা পাল্টে দেয়। এরপর জিইসি মোড়ে ইউনেসকো সিটি সেন্টার, লালখান বাজারের আমিন সেন্টার, ষোলশহর ২ নম্বর গেটের ফিনলে স্কয়ার, প্রবর্তক মোড়ে আফমি প্লাজা, চকবাজারের বালি আর্কেড এবং সর্বশেষ বহদ্দারহাট মোড়ে ফিনলে প্রপার্টিজের সাউথ সিটি শপিং মল ভ্যালু বাড়িয়েছে নগরীর।

তবে চট্টগ্রামে পাকিস্তান আমলে নির্মিত বিপণিবিতান (নিউ মার্কেট) স্থাপত্যশৈলীতে এখনো অনন্য। যদিও এই মার্কেটটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয়, বহুতল ভবন নয়, তারপরও যথেষ্ট আলো-বাতাস খেলা করে এই ভবনটিতে। তীব্র গরমেও এখানে শীতলতার পরশ পাওয়া যায়। ভবনটির চারপাশে যথেষ্ট খোলা জায়গাও রয়েছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে আধুনিক শপিং মলগুলোয় শুধু কেনাকাটাই নয়, আরও কিছু সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হয়েছে। আধুনিক শপিং মলগুলোয় রয়েছে বিনোদনের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাও। শিশুদের খেলার জন্য যেমন বিনোদনজগৎ রয়েছে, তেমনি বয়স্কদের জন্য রয়েছে সিনেপ্লেক্স। অর্থাৎ বাবা-মা নিজের বাচ্চাদের কিডস জোনে প্রবেশ করিয়ে এক বা দুই ঘণ্টায় শপিং শেষ করে নিতে পারবেন। আবার চাইলে সিনেমাও দেখতে পারবেন। আর সবকিছু শেষে খাবারের জন্য রয়েছে ফুডকোর্ট সুবিধা। এই ফুডকোর্টেই বাজিমাত হচ্ছে শপিং মলগুলো। স্যানমার ওশেন সিটিতে ফুডকোর্ট জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্কেটটিও ক্রেতাদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। পরে ফিনলে স্কয়ার ও চকবাজারের বালি আর্কেডের ফুডকোর্ট তরুণদের আকর্ষণের অন্য নাম। এখন এগুলোর সঙ্গে যুক্ত হলো ফিনলে প্রপার্টিজের সাউথ সিটি শপিং মল।

এদিকে আধুনিক শপিং মলগুলোয় ফায়ার হ্যাজার্ড কমাতে সব ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়ে থাকে। শপিং মল বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ইমারত নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এজিএম সেলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নগরীতে বড় জায়গা নিয়ে আধুনিক মার্কেট কমপ্লেক্সের খুব চাহিদা রয়েছে। প্রাইভেট বিনিয়োগকারীরা চাইলে এগিয়ে আসতে পারেন। এতে পুরো এলাকা নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা করা সহজতর হবে।’

তবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এলাকাভিত্তিক শপিং মল বা বাণিজ্যিক স্থাপনার চাহিদা রয়েছে জানিয়ে সিস্টেম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফজলুল আজিম বলেন, ‘নগরীর কোন এলাকায় কোন ধরনের বাণিজ্যিক স্পেসের প্রয়োজন, সেটা অনুধাবন করে প্রকল্প নেওয়া হলে লাভবান হওয়া যায়। এতে বিনিয়োগকারী ও ব্যবহারকারী উভয়ে উপকৃত হবেন।’

খ্যাতনামা স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝর আধুনিক শপিং মল সানমার ওশেন সিটির নকশা করেছিলেন। জনপ্রিয় মার্কেট প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘একটা মার্কেট তখনই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, যখন নিচ থেকে পুরো মার্কেটটি দেখা যায়। আর এই উন্মুক্ত স্থানকে কেন্দ্র করেই চারদিকে দোকান ও লবি গড়ে তোলা হয়। আর এগুলোর সঙ্গে কিডস জোন, ফুডকোর্ট, সিনেপ্লেক্সসহ অন্য সুযোগ-সুবিধাগুলো যুক্ত হয়।’