ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের স্পনসরশিপ নীতি বাতিল, আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা

ইংল্যান্ডের শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতা প্রিমিয়ার লিগের স্পনসরশিপ নীতি ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকলেও, এক স্বাধীন ট্রাইব্যুনালের রায়ে সেটিকে ‘অকার্যকর ও বলবৎ নয়’ ঘোষণা করা হয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটির দায়ের করা এক মামলার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত আসে, যা লিগ কর্তৃপক্ষের জন্য একটি বড় ধাক্কা। 

এই রায়ের ফলে, যেসব ক্লাব আগে এই নিয়মের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তারা ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে, যা প্রিমিয়ার লিগের জন্য বিশাল আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর ফলে ক্লাবগুলোর দাবি ১০ মিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। 

তবে লিগ কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০২৪ সালে সংশোধিত নতুন নিয়মগুলো এই রায়ের দ্বারা প্রভাবিত হয়নি এবং সেগুলো বলবৎ থাকবে। যদিও ম্যানচেস্টার সিটি ইতোমধ্যেই সেই সংশোধিত নিয়মের বিরুদ্ধেও আইনি লড়াই শুরু করেছে, যা নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। 

কেন বাতিল হলো প্রিমিয়ার লিগের স্পনসরশিপ নীতি? 

২০২১ সালে প্রিমিয়ার লিগ একটি নতুন নীতি চালু করে, যার নাম ‘সম্পৃক্ত পক্ষের লেনদেন নীতি’। ইংরেজিতে ‘অ্যাসোসিয়েটেড পার্টি ট্রান্সাকশন’ (এপিটি)। এই নীতির লক্ষ্য ছিল ক্লাবগুলোর মালিকানাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অতিরিক্ত মূল্যের স্পনসরশিপ চুক্তি প্রতিরোধ করা।  

উদাহরণস্বরূপ, ২০২১ সালে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের সৌদি মালিকানায় আসার পর আশঙ্কা তৈরি হয় যে, তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অস্বাভাবিক মূল্যের বাণিজ্যিক চুক্তি করতে পারে, যা তাদের প্রতিযোগিতায় অন্য ক্লাবগুলোর তুলনায় আর্থিক সুবিধা দেবে। তাই এই নীতির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছিল যে যেকোনো স্পনসরশিপ চুক্তির মূল্য যেন ন্যায্য বাজার মূল্যের মধ্যে থাকে। 

কিন্তু ম্যানচেস্টার সিটি এই নিয়মের বিরুদ্ধে মামলা করে যুক্তি দেয় যে, এটি পক্ষপাতদুষ্ট এবং আইনগতভাবে অবৈধ। মামলার শুনানির পর, ট্রাইব্যুনাল রায় দেয় যে এই নীতির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আইনবিরুদ্ধ, এবং সেই অংশগুলো আলাদা করে বাতিল করা সম্ভব নয়, ফলে পুরো নীতিটিই অকার্যকর বলে গণ্য হবে। 

সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি 

এই রায়ের ফলে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যেসব ক্লাবের স্পনসরশিপ চুক্তি বাতিল বা কম মূল্যায়ন করা হয়েছিল, তারা এখন ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।  বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষকে বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ গুনতে হতে পারে, যা ক্লাবগুলোর দাবি অনুসারে দশ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি হতে পারে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘এখন যেসব ক্লাব নিজেদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মনে করছে, তারা লিগের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। এমনকি, যেসব স্পনসরশিপ চুক্তি লিগের কারণে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল, সেগুলো পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।’

প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, এই রায়ের ফলে ২০২৪ সালে সংশোধিত নতুন নিয়মের কার্যকারিতা প্রভাবিত হবে না।  এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘ট্রাইব্যুনাল নতুন নিয়মের বৈধতা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। লিগ বিশ্বাস করে যে নতুন নিয়ম কার্যকর থাকবে এবং ক্লাবগুলোকে এটি মেনে চলতে হবে।’ 

তবে ম্যানচেস্টার সিটি ইতোমধ্যেই এই নতুন নিয়মকেও আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছে, যা লিগের জন্য নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।

এই রায়ের ফলে, ম্যানচেস্টার সিটি ও নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মতো ক্লাবগুলোর জন্য মালিকানাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বড় স্পনসরশিপ চুক্তি করা সহজ হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে, অন্যান্য ক্লাবগুলো প্রিমিয়ার লিগের শাসনব্যবস্থা ও নীতির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। 

তবে প্রিমিয়ার লিগের জন্য আরও বড় সংকট হতে পারে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে চলমান আর্থিক অনিয়মের মামলা। ক্লাবটি ১১৫টি অভিযোগের মুখোমুখি, যা যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শাস্তির মুখে পড়তে পারে। এখন সব চোখ আদালতের পরবর্তী রায়ের দিকে। যদি সংশোধিত নিয়মও অবৈধ ঘোষণা করা হয়, তাহলে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নীতিগুলো কার্যত ভেঙে পড়তে পারে, যা পুরো লিগের প্রতিযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।