আগের রাতে রেকর্ড, পরের দিন স্কুলে

বৃহস্পতিবার রাতেই ইতিহাস গড়লেন মাইকেল নোনান। মাত্র ১৬ বছর ১৯৭ দিন বয়সে উয়েফা কনফারেন্স লিগে গোল করে হলেন প্রতিযোগিতার সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা। ম্যাচ শেষে জয়োচ্ছ্বাসে ভাসার কথা, কিন্তু না! রাতেই বিমান ধরে ফিরতে হলো আয়ারল্যান্ডে— কারণ পরদিন স্কুল কামাই দেওয়া যাবে না! 

শার্মক রোভার্সের এই তরুণ স্ট্রাইকার ইউরোপিয়ান ফুটবলে ইতিহাস গড়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে স্কুলের পথে রওনা হলেন, যেন গত রাতের ঘটনাগুলো শুধুই এক স্বপ্ন! 

নরওয়ের ক্লাব মোলদেকে ১-০ গোলে হারিয়েছে আয়ারল্যান্ডের ক্লাব শার্মক রোভার্স। জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেছেন নোনান, যা তাকে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে জায়গা করে দিয়েছে।  কিন্তু নোনানের জন্য উদযাপন দীর্ঘ হয়নি। ম্যাচ শেষে রাতেই বিমানে চেপে বসতে হয়েছে আয়ারল্যান্ডের উদ্দেশে। রাত ২টায় যখন তিনি বাসায় পৌঁছান, তখন তার জন্য অপেক্ষা করছিল এক চমকপ্রদ অভ্যর্থনা! 

প্রতিবেশীরা বাসন-পাতিল বাজিয়ে তাকে স্বাগত জানান— যেন একটি সত্যিকারের বিজয়ীর ঘরে ফেরা!  সকাল হতেই আরাম করার সুযোগ নেই, কারণ স্কুল কামাই দেওয়া যাবে না! মা স্যান্ডি নোনান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে দেখা যায় কালো জ্যাকেট ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে হাঁটছেন নোনান। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘এখন স্কুলে ফিরে যাচ্ছে সে।’ 

স্যান্ডি বলেন, ‘সে যেতে চেয়েছিল, ভাই-বোনদের সঙ্গে খুশিমনেই স্কুলে গেছে। ক্লাস ছিল অর্ধদিবস, তাই খুব বেশি ক্লান্তও লাগেনি।’ 

গোল করে ইতিহাস গড়ার পর স্বাভাবিকভাবেই নোনান স্কুলে সহপাঠীদের কাছ থেকে বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছেন। তবে স্যান্ডি মজা করে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত তারা তাকে হোমওয়ার্ক দেয়নি। আশা করি, দেবে!’ 

নোনান রাতেই বাসায় ফেরেন, কিন্তু বিশ্রাম নয়, তার প্রথম কাজ ছিল নিজের গোলটি দেখা!  স্যান্ডি বলেন, ‘সে গোলটি দেখতে চেয়েছে, নানা বিশ্লেষণ করেছে, তারপর ঘুমাতে গেছে। এরপর সকালেই স্কুলে ছুটেছে। আমাদের খুব ভালো লাগছে, আমরা খুব গর্বিত।’ 

নোনানের বাবা অ্যান্ড্রু নোনান ও মা স্যান্ডি সাধারণত তার কোনো ম্যাচ মিস করেন না। কিন্তু এই ম্যাচে যে ছেলে একাদশে সুযোগ পাবে, তা তারা ভাবেননি। তাই তারা নরওয়েতে যাননি। 

তবে ম্যাচ চলাকালে আয়ারল্যান্ডে এক ‘ওয়াচ পার্টি’র আয়োজন করা হয়। দুটি টিভিতে খেলা দেখানো হচ্ছিল—একটিতে ২০ সেকেন্ড আগে! ফলে নোনানের বন্ধুরা আগে গোল দেখার পর চিৎকার শুরু করে, আর ২০ সেকেন্ড পর মা-বাবা একইভাবে উল্লাস করেন! 

স্যান্ডি বলেন, ‘উদযাপনটা দুবার হয়েছে। সবাই কাঁদছিল এবং একে অপরকে জড়িয়ে ধরেছিল। আনন্দে কেউই চোখের জল আটকে রাখতে পারেনি।’ 

শার্মক রোভার্স এবারই প্রথম কোনো ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে খেলছে। নোনানের দুর্দান্ত গোলের সুবাদে তারা প্রথম লেগে ১-০ গোলে এগিয়ে। 

আগামী বৃহস্পতিবার ফিরতি লেগ, সেখানে নতুন কোনো চমক নিয়ে আসবেন কি নোনান? এখন শুধু অপেক্ষা। তবে এক রাতে ইতিহাস গড়ে পরদিন স্কুলে ফেরার গল্প ফুটবলে খুব কমই দেখা যায়!