দীর্ঘ ১৬ বছর পর প্রকাশ্যে নড়াইল জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল। রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুই পর্বে দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথম পর্বে নড়াইল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং দ্বিতীয় পর্বে দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটরিয়ামে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান এবং সম্মেলন উদ্বোধন করবেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রী আমানউল্লাহ আমান।
জানা গেছে, দ্বিবার্ষিক এ নির্বাচনে সভাপতি পদে দুজন, সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ও জেলা কমিটির বর্তমান সহসভাপতি জুলফিকার আলী মণ্ডল। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম, বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা শাহরিয়ার রিজভী জজ ও কামরুল ইসলাম। এ ছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অ্যাডভোকেট মাহবুব মোর্শেদ জাপল, ইজাজুল হাসান বাবু, টিপু সুলতান এবং এস এম ফেরদৌস।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর নড়াগাতি থানা, ২৬ অক্টোবর লোহাগড়া থানা ও পৌর, ২৭ অক্টোবর সদর থানা, ১৭ নভেম্বর কালিয়া থানা ও পৌর এবং ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি নড়াইল পৌরসভা বিএনপির দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে। এসব কাউন্সিলে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সরাসরি গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচন করা হয়। পরে প্রতিটি ইউনিটের ১০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। তবে এসব পূর্ণাঙ্গ নির্বাহী কমিটিকে বিতর্কিত ও আওয়ামীপন্থি আখ্যা দিয়ে ১১ ফেব্রুয়ারি লোহাগড়া এবং ১২ ফেব্রুয়ারি কালিয়া থানা ও পৌর বিএনপির পদবঞ্চিতরা বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ করেছেন।
নড়াইল জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ও সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম সম্মেলন প্রসঙ্গে বলেন, দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে সাতটি ইউনিটের নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৬ ফেব্রুয়ারি জেলা বিএনপির সম্মেলন। সম্মেলনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, ‘জেলা বিএনপির শীর্ষ পদ পেতে নেতারা এখন ভোটের রাজনীতিতে ব্যস্ত।’