স্বামীর মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনা, স্ত্রী ও চালক নিহত

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ০২:০০ পিএম

দূরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মৃত ইসমাইল হোসেন মোল্যার (৬৫) মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী জাহানারা বেগম (৫৫) নিহত হয়েছেন। একই সাথে অ্যাম্বুলেন্সের চালক আকবর হোসেন (৩৫) নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় নিহতের ছেলেসহ ৫ জন স্বজন গুরুতর আহত হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) সকাল আটটার দিকে যশোর-নড়াইল-ঢাকা মহাসড়কের নড়াইল সদর উপজেলার পূর্ববালিয়াডাঙ্গা বাদশার গ্যারেজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।  

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের মাহিদিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেন মোল্যা (৬৫) দূরারোগ্যব্যধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। তার ছেলে এস আই আবু তাহের ঢাকা পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত থাকায় পিতাকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে ভর্তি করেন। বুধবার ভোরে তার পিতা ইসমাইল মোল্যা মারা যান। এস আই আবু তাহের তার পিতার মৃতদেহসহ তার মা ও স্বজনদের নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে যশোরে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে নড়াইল সদরের পূর্ব-বালিয়াডাঙ্গা বাদশার এলাকায় পৌঁছালে ভাটিয়াপাড়া গামী একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে মুচকে যায়। বাসটির সামনের অংশও বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত ইসমাইল মোল্যার স্ত্রী জাহানারা বেগম মারা যান। এছাড়া হাসপাতালে নেয়া হলে অ্যাম্বুলেন্সর চালক আকবর হোসেনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অ্যাম্বুলেন্স চালকের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। 

এদিকে দুর্ঘটনায় নিহতের সন্তান ঢাকা পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত উপ-পরিদর্শক (এস আই) আবু তাহের, আনোয়ার হোসেন লিটন, সেলিম হোসেন সহ আহত ৫ জনকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অজয় কুমার কুন্ডু জানান, ঢাকা পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত এস আই আবু তাহের মৃত পিতাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে নড়াইল সদর উপজেলার পূর্ব-বালিয়াডাঙ্গায় বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে তার মা নিহত হয়েছেন। অ্যাম্বুলেন্স চালককে হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান। মৃতেদেহগুলি জেলা হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মৃতদেহগুলি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত অ্যাম্বুলেন্স ও বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে বাসের চালক পালিয়ে গিয়েছে। 

এদিকে, এ ঘটনার পর নিহতের পরিবারের সদস্যরা নড়াইল জেলা হাসপাতালে ছুটে আসেন। এসময় স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। নিহতের স্বজন আনোয়ার কামাল লিটন জানান, বেশ কয়েক বছর আগে নিহতের আরেক ছেলে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বর্তমানে ওই পরিবারে তাদের সন্তান এসআই আবু তাহের ছাড়া আর কেউ রইল না। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত