বৈধ-অবৈধ বিদেশিদের তালিকা করবে এসবি ও এনএসআই

বাংলাদেশে অবৈধভাবে অবস্থান করা বিদেশি নাগরিকদের করণীয় নিয়ে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ১১ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করেছে সরকার। এসব নাগরিকদের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে আজ রবিবার প্রথম বৈঠক করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের (নিরাপত্তা ও বহিরাগমন) নেতৃত্বে গঠিত টাস্কফোর্স। বৈধ ও অবৈধ বিদেশিদের তালিকা তৈরি করবে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)। 

গত ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশে অবস্থান করা সব বিদেশি নাগরিককে বৈধতা অর্জনের জন্য দফায় দফায় সতর্ক করে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণায় থেকে বিভিন্ন ধাপে তিন দফা বিজ্ঞপ্তি জারিও করা হয়। টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকে গত তিন মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে। এই টাস্কফোর্স বাংলাদেশে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে গৃহীত সার্বিক কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন ও পরামর্শ প্রদান করবে। কমিটি এ-সংক্রান্ত বিষয়াদির ওপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান ও প্রয়োজনবোধে সুপারিশ প্রণয়ন করতে পারবে। তবে অবৈধ বিদেশিদের জেলে দেওয়া বা মামলা করবে না টাস্কফোর্স।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের ৭৫৬ নাগরিক অধিদপ্তর থেকে এক্সিট পারমিট গ্রহণ করেছেন। তাদের কাছ থেকে ভিসা ফি বাবদ ৩ কোটি ১৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকা এবং অবৈধ অবস্থানের ফি বাবদ ৭ কোটি ৪ লাখ ৬০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। স্পেশাল ব্রাঞ্চের তথ্যমতে ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত ৯৬১ জন বিদেশি নাগরিকের কাছ থেকে অতিবাস জরিমানা বাবদ ১ কোটি ৬৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। 

টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিডা, বেপজা ও বেজার কর্মকর্তারা বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের ব্যাপারে খুব বেশি কঠোর না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিনিয়োগের স্বার্থে যেসব দেশের নাগরিক বাংলাদেশে অবস্থান করছেন তাদের দেশের সম্মান বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে ওই তিন প্রতিষ্ঠান। মূলত বিডা, বেপজা আর বেজার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানেই বেশিরভাগ বিদেশি কর্মরত রয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বহুসংখ্যক ভারতীয় ও চীনা নাগরিক অবৈধ ভিসায় বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের বৈধতা অর্জনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের গত ৩১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখের মধ্যে বৈধতা অর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের হিসাবে গত তিন মাসে ১২ হাজার অবৈধ বিদেশি জরিমানা দিয়ে নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত দুই ধরনের অবৈধ বিদেশি আছেন। কাজের জন্য এক বছরের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে এসে আর ভিসা নবায়ন করনেনি এমন বিদেশি। আবার ভ্রমণ ভিসায় এসে বছরের পর বছর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন এমন অবৈধ বিদেশি। কাজের জন্য এসে অবৈধ বিদেশির সংখ্যা ৪৫ হাজার। আর ট্যুরিস্ট ভিসায় এসে ভিসা নবায়ন না করে থেকে যাওয়াদের সংখ্যা লক্ষাধিক। অবস্থানরত অবৈধ বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আছেন ভারতীয় ও চীনের নাগরিক।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত টাস্কফোর্সের একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার দেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। দেশের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে দেশে অবস্থানরত অবৈধ বিদেশিদের বিষয়ে কাজ করছে। দফায় দফায় তাদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু বিদেশি নাগরিক বৈধতা নিয়েছেন, আবার অনেকে নিজ দেশে জরিমানা দিয়ে ফিরে গেছেন। তবে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে জেল দেওয়ার বিধান থাকলেও সরকার এখনই বিদেশিদের জেল বা বড় কোনো শাস্তি দেবে না। বিদেশি বিনিয়োগ ও বিদেশিদের কাজের সুযোগ রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা হবে। তবে বিদেশিদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হবে।’