উচ্ছ্বাস-চ্যালেঞ্জ নিয়ে ২৯ বছর পর আইসিসির আয়োজক পাকিস্তান 

দীর্ঘ নিরাপত্তা সংকটের অধ্যায় পেরিয়ে ২৯ বছর পর বড় কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে পাকিস্তান। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৯ মার্চ পর্যন্ত চলবে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এবারের আসর। যা দেশটির ক্রিকেটের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকৃতি ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ শঙ্কার মেঘও তৈরি করেছে। 

পাকিস্তানের তিন শহর করাচি, লাহোর ও রাওয়ালপিন্ডি এই প্রতিযোগিতার আয়োজক। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও দেশটির সরকার এই আয়োজনকে সফল করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। সাবেক পিসিবি চেয়ারম্যান রমিজ রাজা বলেছেন, ‘বিশ্বকে বোঝানো কঠিন ছিল যে, পাকিস্তান এখন নিরাপদ এবং এমন বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের সামর্থ্য রাখে। তবে আমরা সেটা প্রমাণ করতে পেরেছি।’ 

এই টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজন করতে পারলে পাকিস্তানের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি অনেক উন্নত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ভারত তাদের ম্যাচ খেলবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। তবে বাকি সাতটি দল পাকিস্তানেই অবস্থান করবে। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বড় দলগুলো পাকিস্তানে খেলার বিষয়টি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। 

২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কান দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তান দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন করতে পারেনি। তবে ২০১৯ সালে টেস্ট ক্রিকেট ফেরার পর থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা পাকিস্তানে সফর করায় আইসিসিও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনের অনুমোদন দেয়। 

সাবেক অধিনায়ক রমিজ রাজা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘এটা শুধু ক্রিকেট নয়, আমাদের জাতীয় গর্বের বিষয়ও। পাকিস্তানের দৃঢ়তা, সংস্কৃতি ও ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা বিশ্বকে দেখানোর সুযোগ।’ 

৭৭ বছর বয়সী ক্রিকেটভক্ত হাজী আবদুল রাজ্জাকের মতো অনেক পাকিস্তানি ভক্তই ১৯৯৬ বিশ্বকাপের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখছেন। ওই আসরে শ্রীলঙ্কা লাহোরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, যা আজও তার মনে দাগ কেটে আছে। এএফপির সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ আমাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছিল, কিন্তু এখন ক্রিকেট ফিরেছে। এটা আমার জন্য আরেকটি জন্মদিনের মতো।’

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সফল আয়োজন পাকিস্তানের জন্য শুধু ক্রিকেট নয়, সার্বিকভাবে দেশটির ভাবমূর্তির জন্যও এক বিশাল অর্জন হবে। এখন চ্যালেঞ্জ একটাই—টুর্নামেন্ট নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা।