আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সরব হয়ে উঠেছে জার্মানি। ২৩ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে ফেডারেল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জার্মানির পরবর্তী চ্যান্সেলর নির্বাচিত করবেন ভোটাররা। জার্মানির পরবর্তী নেতা হওয়ার এ দৌড়ে আছেন চারজন প্রার্থী। তারা হলেন বর্তমান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস, বিরোধী দলের নেতা ফ্রিডরিখ মের্জ, বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর রবার্ট হাবেক এবং কট্টর ডানপন্থি দলের নেতা অ্যালিস ওয়েইডেল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে জার্মানির ইতিহাসে চতুর্থ আগাম নির্বাচন এটি।
ওলাফ শলৎস : ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে জার্মানির চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ওলাফ শলৎস। মধ্য-বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা তিনি। সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ৬৬ বছর বয়সী শলৎসের। হামবুর্গের মেয়র এবং জার্মানির শ্রম ও অর্থমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। চ্যান্সেলর হওয়ার পর থেকেই তাকে বেশ কয়েকটি অপ্রত্যাশিত সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবে জোট সরকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
ফ্রিডরিখ মের্জ : জার্মানির প্রধান বিরোধী দলের নেতা ৬৯ বছর বয়সী ফ্রিডরিখ মের্জ আসন্ন নির্বাচনে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন। অ্যাঙ্গেলা মের্কেল চ্যান্সেলর পদ ছাড়ার পর ২০২১ সালে ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের নেতা হন তিনি। মের্জ তার দলকে আরও রক্ষণশীল পথে নিয়ে গেছেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি অবৈধ অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
রবার্ট হাবেক : ৫৫ বছর বয়সী রবার্ট হাবেক পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টির প্রার্থী। তিনি বর্তমানে জার্মানির ভাইস চ্যান্সেলর এবং অর্থনীতি ও জলবায়ুমন্ত্রী। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি গ্রিন পার্টির সহ-নেতা ছিলেন এবং এ সময়ে দলের জনপ্রিয়তা বেড়েছিল। মন্ত্রী হিসেবে তার কাজ মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
অ্যালিস ওয়েইডেল : অ্যালিস ওয়েইডেল কট্টর ডানপন্থি-অভিবাসনবিরোধী অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি দলের প্রথম চ্যান্সেলর প্রার্থী। অর্থনীতিবিদ হিসেবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ওয়েইডেল ২০১৩ সালে দলটিতে যোগ দেন। ২০১৭ সালে দলটি প্রথমবারের মতো জার্মানির সংসদে আসন জেতে। তখন থেকে তিনি সংসদীয় দলের সহ-নেতা। তবে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো এএফডির সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় তার চ্যান্সেলর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম।