ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারের কালীবাড়ি রোডের এনআরবিসি ব্যাংক থেকে টাকা ২ লাখ তুলে বের হন কাপড় ব্যবসায়ী মো. নূরুল ইসলাম বকুল (৩৫)। ঈশ্বরগঞ্জ ব্রিজ থেকে বাড়ির উদ্দেশে উঠেন ইজিবাইকে। তার সঙ্গে উঠলেন আরও তিন যাত্রী। কিছু বুঝে উঠার আগেই পাশে বসা একজন বকুলের কোমরে ছুরি ঠেকিয়ে চুপ থাকতে বলেন।
অপর একজন গামছা দিয়ে নাক চেপে ধরলেই অজ্ঞান হয়ে যায় বকুল। কিছুদূর যেতেই জ্ঞান ফিরলে অজ্ঞাত লোকদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় বকুলের। এসময় দুর্বৃত্তরা তার হাত, গলা ও কোমরে ছুরিকাঘাত করার পর গামছা দিয়ে ফের অজ্ঞান করে বকুলকে। পরে কি হয়েছে কিছুই বলতে পারেনি বকুল।
বৃহস্পতিবার (২০ফেব্রুয়ারি) আনুমানিক বিকেল ৫টার দিকে নূরুল ইসলামের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। এদিন সন্ধ্যার পর পৌর এলাকার ঈশ্বরগঞ্জ-আঠারবাড়ি সড়কের কাকনহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মীর বাড়ির সামনে বকুলকে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। এসময় বকুলের সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক কাজের জন্য তোলা ২ লাখ টাকার একটি ব্যাগ ও একটি স্মার্টফোন নিয়ে অজ্ঞান পার্টি চক্র।
স্থানীয়রা আহত বকুলকে উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন এসে হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বকুলকে নিয়ে রাতেই থানায় যায়। নূরুল ইসলাম বকুল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৪ জনকে আসামি করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
ব্যবসায়ী নূরুল ইসলামের বাড়ি উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের চরাকোনা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের প্রয়াত হাসেন আলীর ছেলে। উচাখিলা বাজারে তিনি একটি ফ্যাশন হাউজে কাপড়ের ব্যবসা করেন।
আহত নূরুল ইসলাম বকুল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘অটোরিকশায় উঠে জ্ঞান হারানোর পর কি হয়েছে আমি কিছুই বলতে পারছি না। জ্ঞান ফিরে দেখি আমি ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার কাকনহাটি গ্রামের মীর বাড়ীর সামনে পড়ে আছি। এসময় দেখি আমার সঙ্গে থাকা টাকার ব্যাগ এবং ব্যবহৃত একটি স্মার্ট ফোন সঙ্গে নাই। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা আমাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করিয়ে অজ্ঞান করে। পরে আমার সঙ্গে থাকা টাকা পয়সা, মোবাইল ফোন ছিনতাই করে গুরুত্বর জখম করে। আমার সাথে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করছি।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।