ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তাদের সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে ক্লাবের আয় ১২% কমার বিষয়টি উঠে এসেছে। ইউরোপের সেরা প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়নস লিগে না থাকায় সম্প্রচার আয় ৪২% কমে গেছে, যা ক্লাবের অর্থনৈতিক ক্ষতির অন্যতম প্রধান কারণ।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ইউনাইটেডের মোট আয় ১৯৯ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা), যা আগের বছরের তুলনায় ২৭ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৪০০ কোটি টাকা) কম।
একদিকে মাঠে বাজে পারফরম্যান্স, অন্যদিকে আর্থিক ক্ষতির বোঝা—ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না। চলতি প্রিমিয়ার লিগে দলটি ১৫তম স্থানে, শীর্ষে থাকা লিভারপুলের চেয়ে পিছিয়ে ৩১ পয়েন্ট। গত মৌসুমে দলটি অষ্টম স্থানে থেকে লিগ শেষ করেছিল, যা ১৯৯২ সালে প্রিমিয়ার লিগ শুরুর পর তাদের সবচেয়ে বাজে অবস্থান।
খারাপ শুরুর পর গত অক্টোবরে ম্যানইউ দলটির ম্যানেজার এরিক টেন হাগকে বরখাস্ত করে, যার ক্ষতিপূরণ বাবদ ক্লাবকে গুনতে হয়েছে ১৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ২১০ কোটি টাকা)। তার জায়গায় দায়িত্ব নিয়েছেন রুবেন আমোরিম।
এই তিন মাসে ইউনাইটেডের সংশোধিত ইবিটিডিএ ২৩% কমে ৮৯ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৯৭০ কোটি টাকা) হয়েছে, এবং নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৮০ কোটি টাকা)।
ক্লাবের মালিকানা আংশিক কিনে নেওয়ার পর প্রথম বছরেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন জিম র্যাটক্লিফ। তিনি ১.৩ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা) ইউনাইটেডের ২৫% মালিকানা কিনে ক্লাবের ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব নেন। গত বছর ক্লাব প্রায় ২৫০ কর্মী ছাঁটাই করেছিল, এবং নতুন করে আরও ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার খবর শোনা যাচ্ছে।
এদিকে, ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে নভেম্বরে ক্লাব ম্যাচ টিকিটের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। প্রতি ম্যাচের টিকিট মূল্য দাঁড়ায় ৬৬ পাউন্ড (প্রায় ৯ হাজার ৬০০ টাকা)। তবে ভক্তদের প্রতিবাদের মুখে ক্লাব একটি খোলা চিঠিতে ব্যাখ্যা দেয় যে, গত তিন বছরে তাদের মোট ক্ষতির পরিমাণ ৩০০ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা), যা দীর্ঘমেয়াদে ক্লাবের টিকে থাকার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
ম্যান ইউনাইটেডের অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস সম্প্রচার স্বত্ব। কিন্তু এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা না পাওয়ায় সেটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সম্প্রচার আয়: ১৩৪ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৪৬০ কোটি টাকা) থেকে কমে ৭৮ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা)।
বাণিজ্যিক আয়: ১৮.৫% বেড়ে ১০৭ মিলিয়ন ডলারে (প্রায় ১১৭০ কোটি টাকা) পৌঁছেছে, যেখানে কোয়ালকমের জার্সি স্পনসরশিপ ও নতুন ই-কমার্স মডেল ভূমিকা রেখেছে।
ম্যাচ ডে আয়: ৯.২% বেড়ে ৬৬ মিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৭২০ কোটি টাকা) উন্নীত হয়েছে, যা মূলত হসপিটালিটি প্যাকেজের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে হয়েছে।
অর্থনৈতিক সংকট ও বাজে পারফরম্যান্সের মধ্যেও ম্যান ইউনাইটেড এখনো বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান ফুটবল ক্লাব। ২০২৪ সালে স্পোর্টিকোর তালিকায় ৬.২ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬৮ হাজার কোটি টাকা) মূল্যে ক্লাবটি শীর্ষস্থানে ছিল। তবে মাঠে ও মাঠের বাইরে দুঃসময় কাটিয়ে উঠতে হলে নতুন কৌশল ও সঠিক বিনিয়োগের প্রয়োজন।
ম্যান ইউনাইটেড তাদের বার্ষিক আয় লক্ষ্যমাত্রা ৮২০ থেকে ৮৪৫ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে রাখার আশা করছে, এবং সংশোধিত ইবিটিডিএ ১৮৩ থেকে ২০২ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
তবে ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ওল্ড ট্রাফোর্ড সংস্কার। নতুন স্টেডিয়াম সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে নতুন মালিকানার অধীনে এটি ইউনাইটেডের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
ক্লাবের বর্তমান অবস্থা পরিষ্কার—ম্যান ইউনাইটেডের সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া পুরনো গৌরব ফিরে পাওয়া সহজ হবে না।